স্পোর্টস ডেস্ক : জয়ের হ্যাটট্রিক তো হয়েছেই সঙ্গে লিগ টেবিলের শীর্ষেও পৌঁছে গিয়েছে দল মোহনবাগান। যা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকার জন্য শেষ কথা। কিন্তু দলের ফুটবল নিয়ে প্রশ্নটা থাকছেই। সঙ্গে পড়তে হচ্ছে সমালোচনার মুখেও। তবে এই সমালোচনাকে একজন পেশাদার কোচ হিসেবে বাগান কোচ প্যানস উদাহরণ টেনে আনছেন জিনেদিন জিদানের। এর সঙ্গে মোহনবাগান কোচ অবশ্য সাবধানী, বলছেন এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। আইএসএল ২০২৬-২৭ -এ ঘরের মাঠে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে এই ম্যাচের পরই লম্বা আন্তর্জাতিক ব্রেকে যাবে দলগুলো। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে সবুজ-মেরুন। কিন্তু বারবার প্রতিপক্ষকে প্রথমে গোল করার সুযোগ দেওয়া যে দলের জন্য চিন্তার বিষয়, তা স্বীকার করে নিয়েছেন কোচ। তাই আগামী ম্যাচে শুরু থেকেই আরও সতর্ক, আগ্রাসী এবং মনোযোগী ফুটবল খেলতে চান তিনি। অন্যদিকে, রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা রাহুল জানিয়েছেন, দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ফিটনেস ধরে রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।শেষ কয়েকটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়েছে মোহনবাগানকে। কোচের মতে, এই পরিস্থিতি এড়াতে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে ফুটবলারদের। শুধু প্রথমার্ধের শুরু নয়, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তা ধরে রাখা জরুরি।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে খেললে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করতে চান তিনি। দ্রুত গোল করতে পারলে প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক ছক ভেঙে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন কোচ। তাঁর পরিকল্পনা, শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে প্রতিপক্ষকে নিজেদের কমপ্যাক্ট ডিফেন্সিভ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা।তবে মাঝমাঠে দু’জন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা ডাবল এইট খেলানোর পরিকল্পনা নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। ওড়িশার মাঝমাঠ বেশ জমাট হওয়ায় এই কৌশল কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোচ জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের কৌশল এবং ম্যাচের পরিস্থিতিবিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ চোট সমস্যা। কোচ জানিয়েছেন, গত ম্যাচে পাওয়া সাহালের হাঁটুর চোটের কারণে এই ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না। মিগুয়েলের অনুপস্থিতিও দলের সৃজনশীল ফুটবলে প্রভাব ফেলতে পারে।তবে স্বস্তির খবর, জেমি ম্যাকলারেন আবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। তাঁকে আসন্ন ম্যাচের স্কোয়াডে পাওয়ার আশা করছেন কোচ।
একই সঙ্গে দলের ফুটবলারদের বারবার চোট পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত আগ্রাসী ট্যাকল এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা চোট পেলে গোটা দলের পরিকল্পনাতেই প্রভাব পড়ে। দলে চাকরি থাকবে কিনা আছে প্রশ্ন। তবে বাগান কোচ বললেন,’তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পরেও রিয়াল মাদ্রিদে জিদানকে একসময় বিদায় নিতে হয়েছিল। আমি তো সেক্ষেত্রে কেউ নই। সমালোচনা এবং ফলাফলের চাপ স্বাভাবিক। তাই সেটাকে মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। কিছুই নিশ্চিত নয়।এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ওড়িশা ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়া। মরসুমের শেষে দল যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তা হলে কোনও একটি ম্যাচে কত গোল হয়েছিল, তা কেউ মনে রাখবে না।’