ওঙ্কার ডেস্ক: অজিত পাওয়ারের অকস্মাৎ মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্র রাজনীতি যে বড়সড় পরিবর্তন আসবে তা আন্দাজ করেছিল দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বহুদিনের বিভাজনের পর শরদ পওয়ার ও প্রয়াত অজিত পওয়ার শিবিরের মধ্যে পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিকরণের ঘোষণা হতে পারে। অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পরেই এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতিতে এগোতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা।
কয়েকদিন আগে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি-র অন্যতম শক্তিশালী মুখ অজিত পওয়ারের মৃত্যু দলীয় সংগঠনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন বারামতি কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতাকে শুক্রবার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। দলীয় কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে এনসিপি-কে টিকিয়ে রাখতে ঐক্যই একমাত্র পথ।
দলীয় অন্দরের খবর, স্থানীয় নির্বাচনের পরেই দুই শিবিরের নেতারা একাধিক বৈঠকে বসেছেন। লক্ষ্য, ভাঙন ভুলে আবার একক সংগঠন হিসেবে সামনে আসা। সূত্রের দাবি, অজিত পওয়ার নিজেও জীবিত থাকাকালীন পুনর্মিলনের পক্ষে ছিলেন এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগই নতুন গতি পেয়েছে।
একত্রিত দলের নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য মুখ হিসেবে উঠে আসছে চারটি নাম। শরদ পওয়ার, যিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষীয়ান নেতা, অজিত পওয়ারের স্ত্রী ও রাজ্যসভার সাংসদ সুনেত্রা পওয়ার, সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, এবং অভিজ্ঞ নেতা প্রফুল প্যাটেল। দলের একাংশের মতে, সহানুভূতি ও সাংগঠনিক সমর্থনের নিরিখে সুনেত্রা পওয়ারকে সামনে আনা হলে কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বাড়তে পারে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার কারণে শরদ পওয়ার বা সুপ্রিয়া সুলের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে ভবিষ্যৎ কৌশল, নেতৃত্ব এবং সংগঠন পুনর্গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েও জোর তৎপরতা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পুনর্মিলন বাস্তবায়িত হয়, তবে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এনসিপি আবার শক্ত অবস্থান ফিরে পেতে পারে। বিভক্ত শক্তিকে একত্রিত করে আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দলীয় ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
