ওঙ্কার ডেস্ক: আলবেনিয়ায় ঘটল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক মন্ত্রী নিয়োগ আলবেনিয়ায়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডায়েলা’। রক্তমাংসের মানুষ নন, সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্বারা তৈরি এক ভার্চুয়াল মানবী হিসেবে ডায়েলাকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামা ঘোষণা করেছেন, সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ডায়েলার উপস্থিতিতে দুর্নীতির কোনও সুযোগই থাকবে না।
ডায়েলার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল চলতি বছরের শুরুতেই, যখন তিনি কেবলমাত্র সরকারি এক ওয়েবসাইটের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। নাগরিকদের বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং দপ্তরের খোঁজখবর জানানো ছিল তাঁর প্রাথমিক দায়িত্ব। তবে ধাপে ধাপে ডায়েলার দায়িত্ব বাড়তে থাকে। এখন তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যার মূল কাজ হবে সরকারি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান, বেসরকারি সংস্থা নির্বাচন, কাজের বরাদ্দ এবং প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজরদারি।
প্রধানমন্ত্রী রামা জানিয়েছেন, ডায়েলার মাধ্যমে প্রতিটি দরপত্র হবে “শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতি-মুক্ত”। মানবিক পক্ষপাত বা স্বার্থপরতার জায়গা থাকবে না। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমনভাবে ডায়েলাকে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সরকারি প্রকল্পগুলির প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজের হিসাব খোলাখুলি প্রকাশিত হয়। সরকারের আশা, এতে নাগরিকদের আস্থা বাড়বে এবং ব্যয়ের জবাবদিহিতায় নতুন দিশা মিলবে।
ডায়েলা নামটিরও বিশেষ অর্থ রয়েছে। আলবেনীয় ভাষায় ‘ডায়েলা’ মানে সূর্য। প্রতীকীভাবেই তাকে এমন একটি নাম দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনে আলো ফেলা যায়। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করছেন, সূর্যের মতোই ডায়েলা প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্ধকার কোণে আলো ফেলবে এবং অনিয়ম দূর করবে।
তবে এই নিয়োগ ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্নও কম নয়। অনেকেই জানতে চাইছেন, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলেই কি আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম? কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটলে দায় নেবে কে? মানবিক সংবেদনশীলতা যেখানে জরুরি, সেখানে কি একটি যন্ত্র যথেষ্ট কার্যকর হবে? সমালোচকরা মনে করছেন, প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা একদিন বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে।
সব বিতর্ক সত্ত্বেও, আলবেনিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো যায়, আলবেনিয়া তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
