ওঙ্কার ডেস্ক : আমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বোয়িং ৭৩৭ জেটের জ্বালানি সুইচের ত্রুটি নিয়ে ২০১৮ সালেই সতর্ক করেছিল আমেরিকার ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। কিন্তু সেই পরামর্শ এয়ার ইন্ডিয়া মানেনি বলেই অভিযোগ। ফলে ১২ জুনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শনিবার অহমদাবাদ দুর্ঘটনার এক মাসের মাথায় এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিমান ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মূল কারণ জ্বালানির সুইচের স্থান পরিবর্তন। রানওয়ে ছাড়ার পরেই সুইচ ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ)-এ চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তদন্তকারীদের হাতে থাকা ককপিট রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, এক পাইলট হতভম্ব হয়ে অপর পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘তুমি কেন বন্ধ করলে ?’’ জবাবে অপর পাইলট জানান, ‘‘আমি কিছু বন্ধ করিনি!’’ মুহূর্তের মধ্যে বিমান দ্রুত উচ্চতা ও গতি হারায়। দু’জন পাইলটই মরিয়া হয়ে সুইচ আবার চালু করতে থাকেন। ইঞ্জিন-২ কিছুক্ষণের জন্য স্থিতিশীল হলেও ইঞ্জিন-১ আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এফএএ বোয়িং ৭৩৭ জেট নিয়ে একটি বিশেষ উপদেশাবলি (SAIB) জারি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, সুইচে ‘লকিং ফিচার’ ঠিকভাবে কাজ করছে না। তবে এটি কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না, তাই বিমান সংস্থাগুলি এই ত্রুটি না দেখলেও আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়া চাইলে সেই সতর্কতা মেনে নিয়মিত পরীক্ষা করতে পারত, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের বক্তব্য, তাতে অহমদাবাদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
জ্বালানির সুইচ সাধারণত রানওয়ে ছাড়ার আগে ও অবতরণের পরে ব্যবহার করেন পাইলটরা। মাঝআকাশে বিপদে পড়লে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতেও এই সুইচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রানওয়ে ছাড়ার পর পাইলটের ভুলে এই সুইচ বন্ধ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে সুইচের ডিজাইনের ত্রুটি ছাড়া অন্য কারণ নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই বোয়িং ৭৮৭-৮ জেটেই একই ডিজাইনের জ্বালানি সুইচ ব্যবহার হয়েছিল। বিমানটিতে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি-সহ ২৪২ জন ছিলেন। বেঁচে গিয়েছেন মাত্র একজন। সরকারি হিসাবে প্রাণ গেছে ২৬০ জনের। যদি সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে কি ২৬০ প্রাণ বাঁচানো যেত? এখন সেই প্রশ্নই তাড়া করছে গোটা দেশকে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া ও বোয়িং দুই সংস্থার দিকেই আঙুল তুলছে বিশেষজ্ঞ মহল।
