ওঙ্কার ডেস্ক: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক এবং পার্টির একমাত্র বিধায়ক ফের চর্চায়। বেশ কিছুদিন আগে রেজিনগর এলাকায় বিজেপির কর্মীদের বার বাড়ন্ত নিয়ে বেলাগাম হুমকি শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। এবার শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দেন হুমায়ূন। এমনকি বাবা-মা তুলেও গালিগালাজ করেন ঐ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন শক্তিপুর থানায় আপাতত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন না বিধায়ক। ‘স্যাটাভাঙ্গা’ মন্তব্যের পর ফের চর্চায় হুমায়ূন কবির।
সম্প্রতি শক্তিপুর থানার ওসিকে নিশানা করে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ূন কবির। অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করেন বিধায়ক। হুমায়ূন কবিরের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হয়েছে এবং সেই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন বলে জানান। হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে অযথা গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর মতে, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই সেই সময় পুলিশ ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তিনি বলেন, আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গড়েছে বিজেপি শিবির। মুর্শিদাবাদ এবং নওদা বিধানসভা এলাকা থেকে বঙ্গে নব নির্মিত দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির ভোটে জয়লাভ করেন। কিন্তু তাঁর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বারবাড়ন্ত সহ্য করতে না পেরে তিনি একাধিক বেলাগাম মন্তব্য করেন। তাঁর ‘স্যাটাভাঙ্গা’ মন্তব্য নিয়ে কম চর্চা হয়নি রাজ্য রাজনীতিতে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিও সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়, আইন নিজের গতিতেই চলবে এবং কোনও ব্যক্তি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে নন। উসকানিমূলক বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।