ওঙ্কার ডেস্ক: গত এপ্রিলে সংসদে শেষ অধিবেশনের পর দেশের রাজনীতিতে একাধিক বদল ঘটেছে। আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনে দেশবাসী সাক্ষী থাকতে চলেছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণের। দলবদল, নতুন জোট, দলের একত্রীকরণ, আসন বিন্যাসে বদল—সব মিলিয়ে আসন্ন অধিবেশন উত্তাল হতে চলেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই অধিবেশনে মোট ১৯টি বৈঠক হবে। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এটি চলার কথা।
ঠিক কী কী বদলের পর বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে? ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন, উদ্ধব সেনায় দলবদল এবং ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের বিচ্ছেদ ঘটেছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে সংসদের অধিবেশনে। কারণ এই সমস্ত ঘটনা দেশের রাজনীতিতে দলীয় সংখ্যার সমীকরণ বদলে দিয়েছে। শাসক পক্ষের সদস্যসংখ্যা এই পরিবর্তনগুলির কারণে বৃদ্ধি পাবে এবং বিরোধীরা দুর্বল হতে চলেছে। অধিবেশন শুরুর আগেই স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের ২০ জন বেসুরো সাংসদের এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া, উদ্ধব সেনার ছয় জন সাংসদের একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগদানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি। এর আমঝে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বদল হল তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও টিভিকে-এর মধ্যে জোট গঠনের ফলে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক ও ডিএমকে-র মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ডিএমকে স্পিকারের কাছে চিঠি লিখে তাদের সাংসদদের জন্য কংগ্রেসের আসন থেকে দূরে নতুন আসন বরাদ্দ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিরোধী শিবির থেকে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ, ৬ জন উদ্ধব সেনা সাংসদ এবং ২২ জন ডিএমকে সাংসদ সরে যাচ্ছেন। তাই শাসক গোষ্ঠীর পাল্লা ভারী হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ বা প্রয়োজনীয় সংখ্যা হলো ৩৬২। বর্তমানে বসিরহাট, শিলং ও নওগাঁ—এই তিন আসনে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের মৃত্যুর কারণে আসন ফাঁকা রয়েছে। এর ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা ৩৬০-এ নেমে এসেছে। এনডিএ-র পক্ষে ২৯৩ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন জানানোয় এবং উদ্ধব সেনার ৬ জন সাংসদ শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ায় এই সংখ্যা বেড়ে ৩১৯-এ দাঁড়িয়েছে। ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদ যদি কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের ভিত্তিতে সমর্থন জানান, তবে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৪১ হবে। সব মিলিয়ে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে বাদল অধিবেশনে নামতে চলেছে মোদী সরকার।