
নিজস্ব সংবাদদাতা : আলিপুর চিড়িয়াখানায় শীতঘুমের মধ্যেই পাইথনের মাথায় গজিয়ে উঠল বৃহৎ আকারের একটা টিউমার।
সাপেদের শীত ঘুমে যাওয়ার সময় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই তিনমাস। এই সময় সাপেরা খাওয়া দাওয়া করে না। এই সময় সাপেদের ঘুমে যদি ব্যাঘাত ঘটে তাহলে তাদের শরীরের ক্ষতি হয়। মাস দেড়েক আগে থেকে শীতঘুমে থাকা ১৩ ফুট লম্বা বার্মিজ পাইথনের মাথার সামনের অংশের দিকটা বেশ খানিকটা ফোলা। দেখভালের জন্য থাকেন তাঁরা চিড়িয়াখানার চিকিৎসককে খবর দেয়। তারপর পাইথনকে নিয়ে যাওয়া হয় আলিপুর পশু হাসপাতালে । ইউএসজি, এক্স-রে এর রিপোর্ট এর পর জানা যায় পাইথন এর মাথায় বিশাল আকৃতির টিউমার হয়েছে। মাথা ও ঘাড়ের মাঝে গজিয়ে উঠেছে টিউমারটি। টিউমারটি অপারেশন না করলে প্রাণসংশয় হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। আলিপুর পশু হাসপাতাল সূত্রে খবর, মানুষের মতো পশুপাখিদেরও অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে অজ্ঞান করতে হয়। সেইমতো সাপের ওজন বুঝেও অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়।
অপারেশন সফল হলেও সাপের জ্ঞান ফেরা নিয়ে উদ্বেগ ছিল চিকিৎসকদের। রাজ্য যুব অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি সৌরভ চৌধুরী জানান, অভিজ্ঞ প্রাণীর চিকিৎসকরা এই অপারেশন করেছেন। অপারেশনের পরে বেশ কিছুদিন সাপটিকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল। আপাতত এখন সাপটি পুরোপুরি সুস্থ আছে তাই তাকে আবার খাঁচায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং নজর রাখা হচ্ছে তার উপরে।
বর্তমানে আলিপুরে পশু হাসপাতালে উন্নত পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ইউএসজি, এক্স-রে সব ধরণের টেস্টের মেশিন উন্নতমানের রয়েছে। এই ল্যাবের কর্ণধার বৈশাখী চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমানে আলিপুর চিড়িয়াখানার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। কিছুদিন আগে অজগর-সহ বেশ কিছু প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এখান থেকে ইউএসজি মেশিন নিয়ে যান।”