নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চা বাগানের পথ ধরে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চিতা বাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম এক দিনমজুর। ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন মাঝের ডাবরি চা বাগানে। জখম ব্যক্তিকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার জংশন বাজার থেকে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে মাঝের ডাবরী চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে চিতা বাঘের খপ্পরে পড়েন মোজাম্মেল হক (৫০) নামে ওই দিন মজুর। চা-ঝোপের আড়াল থেকে আচমকা বেরিয়ে এসে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চিতাবাঘটি। ঘটনার আকস্মিকতায় সাইকেল নিয়ে পড়ে যান ওই ব্যাক্তি। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে একের পর এক থাবা বসাতে থাকে চিতাটি। ঠিক সেই মুহূর্তে ওই রাস্তায় একটি টোটো রিক্সা হেড লাইট জ্বালিয়ে আসছিল। টোটো চালক তার রিক্সার আলোয় পথের মধ্যে চিতা বাঘ ও মানুষের লড়াই দেখে ভয়ে টোটো ফেলে পালিয়ে যায়। যদিও টোটোর আলোয় হকচকিয়ে গিয়ে ওই ব্যাক্তিকে ছেড়ে চম্পট দেয় চিতাবাঘটি। এরপর জখম ব্যাক্তির চিৎকারে পথচলতি মানুষজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে খবর দেয় বন দফতরে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই বনদপ্তরের কর্মীরা এবং শামুকতলা রোড ফাঁড়ির ওসি ঘটনাস্থলে আসেন। আহত ব্যক্তিকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত একমাসের মধ্যে মাঝেরডাবরি চা বাগানে বেশ কয়েকটি চিতাবাঘ খাঁচা বন্দী করেছে বনদপ্তরের কর্মীরা।
আলিপুরদুয়ারের চা বাগান অঞ্চলে হামেশাই এধরনের ঘটনা উঠে আসে। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ব্লকের ধনীরামপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এরকমই ঘটনা দেখা গিয়েছিল। সেদিন মাঠে কাজ করতে গিয়ে সুবল রায় বাবু দেখেন, তাঁর পাট খেত তছনছ হয়ে গিয়েছে। খেতের অবস্থা দেখে তিনি মনে করেছিলেন, কোনও গবাদি পশু ঢুকে নষ্ট করেছে পাট খেত। সেই ভেবে সেটিকে তাড়াতে ঢুকে পড়েন পাট খেতের ভেতরে। কিন্তু, জমির দিকে একটু এগোতেই তাঁর ‘চক্ষু চড়কগাছ’। দেখেন, পাট খেতের ভেতর শুয়ে আছে একটি চিতাবাঘ। বাঘ দেখে তড়িঘড়ি করে পিছন ফিরে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু, ততক্ষণে বাঘটি লাফ দিয়ে তাঁর পিঠে থাবা বসিয়ে দেয়। আতঙ্কিত সুবল বাবুর চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। লোকেদের আসতে দেখে চিতাবাঘটি বনের মধ্যে গা ঢাকা দেয়। আহত কৃষককে তড়িঘড়ি বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। তাঁর সারা শরীরে চিতার আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত। খবর যায় বন দফতরে। ঘটনাস্থলে আসে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশও।
এরকম আরেক ঘটনা ডুয়ার্সের তাসাটি চা বাগানে একটি চা বাগানে। কীটনাশক স্প্রে করছিলেন আকাশ। সেই সময় চা বাগানের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে ছিল চিতাবাঘটি। তা আকাশের নজরে আসেনি। এরপর আচমকা আকাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চিতাবাঘ। আচমকা চিতা বাঘের হামলার ফলে আকাশের মাথায় এবং ঘাড়ে গভীর ক্ষত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।
বিন্নাগুড়ি চা বাগানে চিতা বাঘের আক্রমণে গুরুতর ভাবে আহত হয়েছিলেন এক মহিলা চা শ্রমিক। রিতিমতো চিতা বাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বেঁচেছিলেন তিনি। আহত শ্রমিকের নাম রশনি ওরাও(৩৫)। বিন্নাগুড়ি চা বাগানের নিউ লাইনের বাসিন্দা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ধূপগুড়ি মহকুমার বানারহাট থানার বিন্নাগুড়ি চা বাগানে।
রুদ্ধশ্বাস সেই ঘটনা। চা বাগানে পাতা তোলার সময় হঠাৎই রশনি চিতা বাঘের মুখোমুখি। চিতা বাঘটি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর। বুকে এবং ঘাড়ে কামড়ে দেয়। প্রাণে বাঁচতে রীতিমতো চিতা বাঘের সঙ্গে লড়াই শুরু করে দেন তিনি। সাহস করে চিতা বাঘের মুখে ঘুসি বসিয়ে দেন। তাতেই হকচকিয়ে যায় চিতা বাঘ। শিকার ছেড়ে সে তখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে গভীর অরণ্যে চম্পট দেয়। মহিলার চিৎকার শুনে আশেপাশের শ্রমিকরা ছুটে আসেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বানারহাট হাসপাতাল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল।
