ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক শুল্কবৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক হুমকির মুখে দিল্লি সরাসরি আক্রমণ শানাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার এক জনসভায় তিনি নাম না করে কটাক্ষ করেন, “যে সবকা বস সেজে বসে আছে, তারা ভারতের এই দ্রুত উত্থান হজম করতে পারছে না।” রাজনাথের অভিযোগ, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি ভারতের ক্রমোন্নতি মেনে নিতে পারছে না। তাঁদের উদ্দেশ্য, ভারতীয় পণ্যের দাম এত বাড়িয়ে দেওয়া যাতে বিদেশি বাজারে তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা “ভারতকে বড় শক্তি হওয়া থেকে আর কেউ আটকাতে পারবে না।”
সম্প্রতি ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির উপর ২৫% শুল্ক চাপিয়েছেন। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখায় আরও ২৫% জরিমানা ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সতর্ক করেছেন, ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, ভারতের অর্থনীতিকে “মৃত” বলে কটাক্ষ করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন দিল্লি নাকি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে। দিল্লি এই শুল্কবৃদ্ধিকে “অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। সরকারের অবস্থান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে ভারতের যুক্তি, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজারের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার।
রাজনাথ এদিন জানান, “আজ আমরা বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছি। এই সাফল্যই নতুন ভারতের শক্তি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্পষ্ট করেছেন, কৃষক, জেলে ও দুগ্ধশিল্পের স্বার্থে ভারত কোনও আপস করবে না। তাঁর দাবি, আমেরিকার শুল্কের ধাক্কা ভারত সামলে নিতে সক্ষম।
কৃষি ও দুগ্ধশিল্প নিয়ে ভারত-আমেরিকার মতপার্থক্য নতুন নয়, তবে রাশিয়ার তেল আমদানি ও উচ্চ শুল্কের কারণে এবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের সঙ্গে আপাতত আর কোনও বাণিজ্য আলোচনা হবে না যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
