অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবসভ্যতা যে ভয়াবহতা দেখেনি, এবার কি ফের সেই দৃশ্যের সাক্ষী হবে মধ্যপ্রাচ্য সহ গোটা বিশ্ব? ইরানে কি সত্যিই পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা? এমনই আশঙ্কা উস্কে দিয়েছে তেহরানের জারি করা একটি বিশেষ ভিডিও নির্দেশিকা।
ইরান প্রশাসন সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ৮ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের পরমাণু হামলা হলে কীভাবে প্রাণ বাঁচাতে হবে, তার বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA।
ভিডিওতে বলা হয়েছে, হামলা হলে কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে তেজস্ক্রিয় দূষণ এড়াতে হবে এবং ফলআউট থেকে বাঁচতে কী করতে হবে। নাগরিকদের ভূগর্ভস্থ ঘর বা বেসমেন্টে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। জানালা থেকে দূরে থাকতে এবং AC-র মতো বাইরের হাওয়া ভিতরে টানে এমন যন্ত্র বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। খোলা জায়গায় আটকে পড়লে কী করণীয়, সেই নির্দেশও রয়েছে।
মিশর ও সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমেও এই নির্দেশিকা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে, প্যাকেটের খাবার ও বোতলের জল ব্যবহার করতে। গাড়ির ভিতরে আশ্রয় না নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানের জরুরি পরিষেবা বিভাগ সতর্ক করেছে, তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিস্ফোরণস্থল থেকে অনেক দূরের মানুষেরও ক্ষতি করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ২৯ অক্টোবর। তেহরানের আগের নির্দেশিকার তুলনায় এবারের পরামর্শ অনেকটাই আলাদা। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকা বিমান হামলা চালালে প্রশাসন বলেছিল, তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়ায়নি। কিন্তু সত্যিকারের পরমাণু হামলা হলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবেই। তাহলে কি সেই আশঙ্কাতেই এই প্রস্তুতি? একই কারণে ইউরোপের দেশগুলিও কি নাগরিকদের খাবার ও ওষুধ মজুত রাখতে বলছে? প্রশ্ন তুলছে আন্তর্জাতিক মহল।