ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশ হওয়ার কথা চলতি মাসের ২৮ তারিখে। এই তালিকায় নাম বাদ জেতে পারে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের। এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বহু মতুয়া এবং উদ্বাস্তু গোষ্টীর মানুষদের নাম বাদ যাওয়ায় আশঙ্কায় তড়িঘড়ি এক বিশেষ দল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি বঙ্গে একটি ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় জমা পড়া আবেদনগুলি যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য এই বিশেষ কমিটি কাজ করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের নির্দিষ্ট ধারার অধীনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, রাজ্যে জমা পড়া আবেদনগুলিকে দ্রুত যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। এতদিন জেলা স্তরে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হত। এখন এই ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি রাজ্যেই আবেদনগুলির উপর চূড়ান্ত মতামত দেবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন জারি করবে।
এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন আদমশুমারি পরিচালনা অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। পাশাপাশি সদস্য হিসেবে থাকবেন সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-এর প্রতিনিধি, বিদেশীদের আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস-এর মনোনীত আধিকারিক, জাতীয় তথ্য বিজ্ঞান কেন্দ্র-এর প্রতিনিধি এবং রাজ্যের পোস্টাল বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ নাগরিকত্বের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন বসবাস করলেও নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছিল। নতুন কমিটি গঠনের ফলে সেই জট কিছুটা কাটতে পারে বলেই কেন্দ্রের আশা।
তবে রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতিতে এমন পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই কমিটি গঠনের মূল লক্ষ্য।
