ওঙ্কার ডেস্কঃ আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুদামের মালিক তথা ডেকরেটর ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করায় পুলিশ। সেখানে ধৃত গুদাম মালিক প্রশ্ন করেন, বিমান দুর্ঘটনা হলে বিমান সংস্থার কাউকে বা বিমানের মালিককে গ্রেফতার করা হয়না, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার কারণে কী ভাবে মালিককে দায়ী করা যায়?
বুধবার আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের মামলায় কোর্টরুম উত্তপ্ত হয়। অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা জানান, তাঁর মক্কেলের বয়স প্রায় ৭২ বছর। তিনি একাধিক অসুখে ভুগছেন। ৫০০–৬০০ জন মানুষ তাঁর তৈরি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তা ছাড়া গঙ্গাধরের তৈরি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। এমন একজনকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘দোষী’ করার মানে কী? তাছাড়াও ২০১৬ সাল থেকে গঙ্গাধর বৈধ ‘হোল্ডার’ হলেও ২০২৩ সাল থেকে আনন্দপুরের সম্পত্তিটি তিনি ভাড়ায় দিয়ে দিয়েছেন। ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ ছিল, সেখানে কোনও বিপজ্জনক বা দাহ্য পদার্থ মজুত করা যাবে না। কিন্তু ভাড়াটেরা তা মানেন্নি। সেক্ষেত্রে কীভাবে এই দোষ মালিকের হল!
অন্য দিকে, সরকারি কৌঁসুলি জানান, আনন্দপুরের গুদামে দু’টি সংস্থা কাজ করছিল। কর্মীরা সেখানে কাজ করার সময় কী ভাবে এমন বিপজ্জনক সামগ্রী রেখেছেন, তা দেখার দায় মালিকেরই। তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। পাশাপাশি ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গঙ্গাধরকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
