ওঙ্কার ডেস্ক: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল, তা নতুন মোড় নিয়েছে। নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননাকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পরেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, কাউকে অপমান বা বদনাম করার উদ্দেশ্যে তিনি কিছু বলেননি। ইতিহাসে যা রয়েছে, সেটিই তিনি বলেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথাও হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন অনন্ত মহারাজ।
বিতর্কের সূত্রপাত দিনহাটায় একটি কর্মসূচির পর অনন্ত মহারাজের বক্তব্যকে ঘিরে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাস্ত করেছিলেন। এমনকি নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরির ক্ষমতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি ছিল, ব্রিটিশদের হাতে বন্দি জার্মানদের মাধ্যমে নেতাজির কাছে কিছু বিষয় পৌঁছেছিল এবং নেতাজি তা অপব্যবহার করেছিলেন। অনন্ত মহারাজের বক্তব্য এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াইয়ের পরিণতিও অন্যরকম হতে পারত এবং কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকি কোচবিহারের মহারাজাকে দেশের সম্রাট করা হলে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনও ঘটত না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি গড়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত।
এই আবহেই বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর বা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রসঙ্গ ওঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তি করলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের মতো কঠোর পদক্ষেপও করা হবে বলে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী কি না, তা বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মবার্ষিকির দিন স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য নাম না নিয়ে ‘ফরওয়ার্ড ব্লকের গুন্ডা’ বলে নেতাজিকে অসম্মানিত করার চেষ্টা করে। যদিও এখনও অনন্ত মহারাজ বা অনান্য কোন কারো নামে গ্রেপ্তারের কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবু তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।