বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা ছোট বাগানে সহজেই টবে ডালিম গাছ চাষ করা যায়। সঠিক টব, মাটি, আলো ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে টবেই সুন্দর গাছ তৈরি করে ফল পাওয়া সম্ভব। ডালিম গাছ সাধারণত বেশি জায়গা নেয় না এবং রোদযুক্ত পরিবেশে ভালো বেড়ে ওঠে।
প্রথমে সুস্থ ও সবল ডালিমের চারা সংগ্রহ করতে হবে। কলমের চারা হলে দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গাছের আকার অনুযায়ী অন্তত ১২–১৮ ইঞ্চি গভীর ও চওড়া টব নির্বাচন করা ভালো। টবের নিচে অবশ্যই জল বের হওয়ার জন্য কয়েকটি ছিদ্র থাকতে হবে। মাটি তৈরির সময় দোআঁশ মাটির সঙ্গে পচা গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট এবং কিছুটা বালি বা কোকোপিট মিশিয়ে নিতে হবে। এতে মাটি ঝুরঝুরে থাকবে এবং অতিরিক্ত জল জমবে না।
চারা টবে বসানোর পর হালকা জল দিতে হবে। ডালিম গাছের জন্য প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সরাসরি রোদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই টবটি এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। তবে মাটিতে সব সময় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিতে হবে।
গাছ দ্রুত বেড়ে উঠলে অতিরিক্ত ও দুর্বল ডাল ছেঁটে দিতে হবে। শুকনো, রোগাক্রান্ত ও ভেতরের দিকে বেড়ে ওঠা ডাল নিয়মিত কেটে দিলে গাছের আকৃতি সুন্দর হয় এবং নতুন ডাল বের হতে সাহায্য করে। বছরে কয়েকবার জৈব সার বা পচা কম্পোস্ট প্রয়োগ করা যেতে পারে। ফুল ও ফল ধরার সময় গাছের পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ হচ্ছে কি না, নিয়মিত পাতার নিচের অংশ ও কচি ডাল পরীক্ষা করতে হবে। আক্রান্ত পাতা বা ডাল দেখা গেলে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত জৈব বা অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবশেষে, টবের মাটি কয়েক বছর পরপর আংশিক পরিবর্তন বা গাছকে বড় টবে স্থানান্তর করা ভালো। পর্যাপ্ত রোদ, সঠিক জল, নিয়মিত ছাঁটাই ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারলে টবের ডালিম গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে এবং একসময় সুস্বাদু ফলও দেবে।