অর্পিতা মুখার্জী: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলছে সেখানে। এই অবস্থায় এবার কেন্দ্রের সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে নাইডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ফসল, বাড়িঘর, রাস্তা ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে কোনাসীমা জেলাতেই ১৮০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩১টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে বিশাখাপত্তনমে। এছাড়াও রাজ্য সড়কে ২২০টির বেশি গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে একাধিক এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা। শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০,৯০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। জলের তলায় রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান। অর্ণবের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলি হল কোনাসীমা, কাকিনাড়া, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, আনাকাপল্লি ও কৃষ্ণা। বিশাখাপত্তনম শহরের চারটি ওয়ার্ড জলমগ্ন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ১৪টি জেলায় ১৬টি এনডিআরএফ ও ১১টি এসডিআরএফ টিম মোতায়েন করেছে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা মিলিয়ে কয়েক লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে।
নাইডু চিঠিতে আরও লিখেছেন, “স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার, রিয়েল টাইম গভর্নেন্স সোসাইটি এবং সমস্ত কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। সব মাছ ধরার নৌকা বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোনও নৌকার ক্ষতি হয়নি। মেডিক্যাল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, ত্রাণ সামগ্রী, বিদ্যুৎ মেরামতির দল ও রাস্তা পরিষ্কারের দল মোতায়েন করা হয়েছে, জেলাশাসকরা মাঠে থেকে কাজ সামলাচ্ছেন।”
এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, কেন্দ্র যত দ্রুত সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য একটি দল পাঠাক এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনে এনডিআরএফ-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা অব্যাহত থাকুক। সঙ্গে চিঠিতে নাইডু লিখেছেন, “আমাদের এখন অগ্রাধিকার হল বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ পুনরুদ্ধার, রাস্তা পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, পাশাপাশি ঘরছাড়া পরিবারগুলিকে সহায়তা করা।”