তাপস মহাপাত্র
দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাহুল জানিয়েছেন, কেন্দ্র যদি জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দেয় তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রস্তাবিত রামলীলা র্যালি বাতিল করা হবে।
জ্ঞানেশ ইস্যুতে কেন্দ্রের কোনো কৌশলই যে ধোপে টিকছে না তা আর অস্পষ্ট নয়। বিরোধীদের দমাতে ইতিমধ্যেই নানান উপায় প্রয়োগ হয়েছে। তা ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই হোক কিংবা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে। এই পরিস্থিতিতে ৪০ হাজার নিরাপত্তা রক্ষী এখন মোতায়েন রয়েছে দিল্লিতে। তা নিয়েও ফাঁপরে পড়েছে কেন্দ্র। বিরোধীরা আওয়াজ তুলেছে যে, দেশের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে রাজধানীতে যেন যুদ্ধের আয়োজন করেছে কেন্দ্র।
আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়, আইনি মারপ্যাঁচে হেনস্থা, ভয় প্রদর্শন, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র প্রয়োগের কোনো পথই বাদ যায়নি, তবু রোখা যাচ্ছে না বিরোধী এবং জেন জিদের। ককরোচদের ভাঙতে জেন জি-র মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। সমাজ মাধ্যমে এই নিয়ে ভুরি ভুরি ভিডিও ঘুরছে। দীপকে-রাঙ্কা-দাসের মধ্যে মনোমালিন্য ঘটে গেছে এমন কথাও চাউর হয়েছে। কিন্তু, কোনো ভাবেই নির্বাচন কমিশন বিরোধী হাওয়ার প্রাবল্যকে থামানো যাচ্ছে না।
এরমধ্যে এসে গেল উৎসবে মরশুম। উত্তর ভারত জুড়ে নবরাত্রির পার্বন, বাংলা সহ পূর্ব ভারতে দুর্গাপুজোর মরসুম। মাঝখানে এই বেশ কিছুদিন জুড়ে রাজনৈতিক ভাটাকে প্রশ্রয় দেননি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একের পর এক বিতর্ক তৈরি করে আন্দোলনের রেশ ধরে রাখতে চেয়েছেন। এর মোকাবিলায় বিজেপির তরফে বেশ কিছু প্রচেষ্টা দেখা গেছে। নিয়ে এসেছে অরুণাচল প্রসঙ্গ। তবু যেন বাগে আনা যাচ্ছে না বিরোধী শিবিরকে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোটের ডাকা রামলীলা র্যালি নিয়ে শাসক দলের কপালে ভাঁজ দেখা যাচ্ছে। রাহুল গান্ধী এই কর্মসূচিতে ২০ লক্ষ মানুষের যে জন জোয়ারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন তাতে কি দ্বিতীয় দফার যন্তর মন্তরের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে রাজধানী ? দিল্লির মানুষের কাছে ফের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, সেবার দিল্লিকে যে ভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল তাকে ককরোচ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন ১৯৭৫ সালে দেশের জরুরি অবস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল দিল্লির পরিস্থিতি। একই ভাবে কংগ্রেস নেতৃত্বধীন ইন্ডিয়া জোটের একের পর এক কর্মসূচিকে ব্যর্থ করতে সবরকম চেষ্টা দেখা গেছে প্রশাসনের তরফে। এমন কি সাংবাদিকদের উপর পুলিশের হামলাও সামনে এসেছে।
ফলে কেন্দ্রের কাছে ইন্ডিয়া জোটের রামলীলা র্যালি কর্মসূচি একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই)-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়াল একটি চিঠিতে রাহুল গান্ধীকে অনুরোধ করেছেন যাতে ১ নভেম্বরের কর্মসূচি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে তাঁরা দেখিয়েছেন, এই সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম হলে দীপাবলির আগে তাঁদের ব্যবসার ক্ষতি হবে। ওই চিঠিতে দিল্লির ২০টি বাজারের প্রতিনিধিরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এ ব্যাপারে একটি বৈঠকের আবেদনও জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, সমাবেশস্থলের ১ থেকে ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা বাজারগুলোর ব্যবসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চার দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় চিঠি, যা সিটিআই রাহুল গান্ধীকে পাঠিয়ে সমাবেশটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এর আগে ২৪ অক্টোবর লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে লেখা প্রথম চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছিল যে, সমাবেশ পিছিয়ে দিলে বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সুরক্ষিত থাকবে। বুধবারের চিঠিতে ব্রিজেশ গোয়াল লিখেছেন, “আমরা কোনো বিবাদ চাই না। আমরা আলোচনা চাই। রাহুলজি নিজেই বলেন যে তিনি সবার কথা শোনেন, ছোট ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনেন। তাই, ২০টি বাজারের ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা তাঁর কাছে ২০ মিনিট সময় চেয়েছি। এটিই হবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
যদিও বিরোধীরা একে কেন্দ্রের একটি কৌশল হিসেবে ধরছেন। তাঁরা মনে করছেন, এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিয়েছে শাসকদল। এক্ষেত্রে পাল্টা অস্ত্র ছুঁড়েছেন রাহুল। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রকে বলে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করুন, তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই র্যালি তুলে নেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহল একে রাহুলের মাস্টারস্ট্রোক বলছে।