মেধা নয়, শ্রম
তাহলে কী মেধা দুনিয়ায় কর্মসংস্থানের দিন কার্যত ফুরিয়ে এল ? AI-এর উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল তারই ল্যান্ডফল ঘটে গেল দুনিয়ায় প্রযুক্তি-জায়ান্ট মাইক্রোসফটে। খুব সম্প্রতি ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছা অবসরের প্রস্তাব দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান একটি বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীদের জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব সংস্থার কর্মী পরিচালনার নীতিতে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই বিজ্ঞপ্তি থেকে যা দাঁড়াচ্ছে, সংস্থার মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের চাকরি যাচ্ছে। মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমেরিকা, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার নীচের স্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে তথ্যভান্ডার, বিক্রয় এবং বিপণনে কর্মরত কর্মী-সহ কিছু নির্দিষ্ট কর্মীগোষ্ঠী এর আওতা থেকে বাদ পড়বেন বলে জানা গিয়েছে।
এর প্রভাব নিশ্চয়ই পড়তে চলেছে অন্যান্য সংস্থায়ও। এবং এটা পরিস্কার হয়ে উঠছে যে, আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে আর মেধার কদর থাকছে না। অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রমের ক্ষেত্র ছাড়া কর্মসংস্থানের যুগ শেষ হয়ে আসছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এমন একটা দুর্যোগ যে আসতে চলেছে তার ইংগিত বেশ কিছুদিন আগেই মিলেছিল। সেবার স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল মাইক্রোসফট। সেই অবসর প্যাকেজের আওতায় কর্মীদের পদমর্যাদা ও চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আট থেকে ৩৯ সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তখনই বিশ্ব জুড়ে এই আশঙ্কা ঘনিয়ে ওঠে। AI-এর আগ্রাসন যে অবশ্যম্ভাবী তার ডঙ্কানিনাদ শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে মেধা দুনিয়ায় এই বিকল্প মেধার অনুপ্রবেশ ঘটাতে জল মাপার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। যার ফলে বিশ্ব জুড়ে AI নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্কের ঝড় ওঠে। মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত প্রযুক্তি দিয়ে কী করে প্রযুক্তি নির্ভর সভ্যতার অগ্রগতি সম্ভব তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। তবু মুনাফার বাজারে, বিশেষ করে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলি আপাতত একেই ব্যবহার করতে চাইছে। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে যে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে তা কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে শঙ্কায় ভাবী প্রজন্ম। তবে এর থেকে পরিত্রাণের পথ নিশ্চয়ই বেরোবে, নাহলে যে সভ্যতার অগ্রগতি রুদ্ধ হবে !