নিজস্ব স্বজ্ঞাবাদদাত, কলকাতা: ভবানীপুর আসন ধরে রেখে কেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন, বুধবার বিধানসভায় তার ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স নিয়েও কটাক্ষ করলেন তিনি।
এদিন বিধানসভায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, তাঁর বয়স হয়েছে, এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। ভবানীপুর ছেড়ে দিলে ফের সেই আসনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন মমতা, সেই সুযোগ দিতে চাননি বলেই নন্দীগ্রাম ছেড়েছেন। শুভেন্দুর মন্তব্য, “ভবানীপুর ছাড়লে যিনি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। সেই সুযোগ না দেওয়াই ভালো। ওনার অনেক বয়স হয়েছে, প্রায় ৭৫। এই বয়সে আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভালো, বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু দুটি আসন থেকেই লড়েছিলেন – নিজের পুরনো গড় নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর। ভবানীপুরে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতাকে হারান। পরে ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। এতদিন নন্দীগ্রাম থেকেই জিতে আসছিলেন তিনি।
এদিনের বক্তৃতায় রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ছ’মাসে যা কাজ হয়েছে তা সবে “চা-বিস্কুট”, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি। সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন সংখ্যালঘুদের দূরে সরিয়ে রাখা হত, কিন্তু রেজিনগরে সংখ্যালঘুরাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।
অন্যদিকে এদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতের নথি চুরির চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। গত সোমবার ভোরে সমাজমাধ্যমে ঋতব্রত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের হলফনামা বোঝাই ট্রাকে হামলা চালিয়ে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, কালীঘাট শিবিরের হলফনামা চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গিয়েছে, কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তাঁরা সড়কপথে নথি পাঠিয়েছিলেন। সেই ট্রাকেই ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ হামলা হয় বলে অভিযোগ, যার নেপথ্যে মমতাপন্থী শিবির রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করুন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। বিরোধী দলনেতা পোস্ট করেছেন নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। আপনারা এফআইআর করলে আমরা তদন্ত সিআইডিকে দিয়ে দেব।” পরে ঋতব্রত জানান, তাঁরা রাজ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন।
এছাড়া নিজের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই মামলায় সাত জন গ্রেফতার হয়েছে, শুটার ও সুপারি কিলার ধরা পড়েছে। এখন শুধু জানা বাকি, দু’কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল – টাকা কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট না ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল। ভোটের ফল ঘোষণার পরই খুন হয়েছিলেন চন্দ্রনাথ, পরে তাঁর মা হাসিরানিকেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করে বিজেপি।