ভারতের বন্ড বাজার ধুঁকছে
তেলের দাম, যুদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে ভারতীয় সরকারি বন্ডের দর ২০২৩ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে যারা আগে থেকেই বন্ড ধরে রেখেছেন, তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৬.৬ শতাংশের নিচে ছিল ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের আয় হার। এবছর ২৩ অক্টোবর তা প্রায় ৭.৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ৭ অক্টোবর রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রেপো রেট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। তাদের এই নীতিগত অবস্থানকে ‘নিরপেক্ষ’ থেকে পরিবর্তন করে ‘পরিমিত সংকোচনমূলক’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে। সেপ্টেম্বরে খুচরা মূল্যস্ফীতি ৫.৫৪ শতাংশে এবং পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১১.৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে। মে মাস পর্যন্ত গত বারো মাসে বেশ কয়েকটি ‘গিল্ট ফান্ড’ ২০১৪ সালের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল দেখিয়েছে। ব্যাংক আমানতের চিত্রটি অবশ্য ভিন্ন। কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্ডের দাম পরিবর্তিত হয়ে যায়, অথচ আমানতের সুদের হার পরিবর্তিত হতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে গ্রামীণ ভারতে। অথচ গ্রামীণ পরিবারগুলো মূলত ব্যাংক আমানতের ওপরই নির্ভরশীল।
চলতি বছর ভারতীয় বন্ডের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জ্বালানি তেল। এ বছর বন্ডের আয়ের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হল জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া। তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। তখন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করে। যদি কোনো স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে তেলের দাম কমে আসে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘুরবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো জটিল ডেরিভেটিভস ব্যবহার না করেই দীর্ঘমেয়াদী ‘গিল্ট ফান্ড’-এ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই বিনিয়োগের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।