অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: গাইঘাটার কিশোরী ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকেই সমর্থন করল নিহতের পরিবার। তাঁদের দাবি, সঠিক বিচার হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কন্যাহারা বাবা বলেন, “শুনেছি পুলিশের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল, তাই পুলিশ গুলি করেছে। পালানোর চেষ্টা করলে গুলি তো করবেই। তবে আমার মেয়েকে কি আর ফিরে পাব?” একইভাবে কিশোরীর মা’ও এই ঘটনাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল, গুলি চালিয়েছিল। শুনেছি মারা গিয়েছে, ভালই হয়েছে।”
পরিবারের আর এক সদস্য বলেন, “অভিযুক্ত পুলিশের উপর গুলি চালানোর চেষ্টা করে। শুনেছি এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে। তার জন্য পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। বুঝলাম উপরে ভগবান আছেন, আমরা সঠিক বিচার পেয়েছি।”
পুলিশ সূত্রের দাবি, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ি এলাকায় প্রস্রাবের কথা বলে গাড়ি থামাতে বলেন প্রহ্লাদ। তখনই এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে, একটি গুলি লাগে পুলিশের গাড়িতে। হামলায় জখম হন এক পুলিশকর্মী জখম হন, আরেকজন প্রাণ বাঁচাতে পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালায়, একটি গুলি লাগে প্রহ্লাদের গায়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বাড়ির কাছে জলসা দেখতে গিয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে, তারপর থেকে নিখোঁজ। রবিবার সকালে তার বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।