নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটার তালিকায় নামের বানানে ভুল এবং তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কটাক্ষ ঘিরে বিতর্ক চরমে। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হল কমিশন।
মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ সিইও-র অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে বলা হয়, ওই হ্যান্ডল থেকে করা মন্তব্যের সুর ও ভাষা সরকারি হ্যান্ডলের উপযুক্ত নয়। যাঁরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাঁদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে ভাষা আরও সংযত ও সরকারি রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় একাধিক ভুল সামনে আসার পর। সেখানে এক ভোটারের নাম ‘রামহিত যাদব’-এর জায়গায় লেখা হয় ‘রাম নে যাদব কো মারা’। বিষয়টি নিয়ে এক্স-এ সরব হন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাম কেন শুধু যাদবকেই মারলেন, অন্য পদবির কাউকে নয়? কমিশনের কম্পিউটার জাতিবাদী কি না, বা নির্দিষ্ট দলের প্রচার চলছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর জবাবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়ার দফতর থেকে ব্যঙ্গাত্মক জবাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বলা হয়, ভুল হয়েছে ঠিকই, তবে তাতে জাতিগত বৈষম্য নেই, কারণ রবি শর্মার বাবার নামও ভুল করে ‘রাম নে শর্মা কো মারা’ লেখা রয়েছে। অন্য একটি পোস্টে আরও কটাক্ষ করে বলা হয়, ভাগ্যিস রাম কোনও সংখ্যালঘুকে মারেননি, না হলে সাম্প্রদায়িক তকমা দেওয়া হতো।
এই মন্তব্যে বিতর্ক আরও বাড়ে। সোমবার লখনউতে সাংবাদিক বৈঠক করে সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, সিইও বিজেপির এজেন্টের মতো আচরণ করছেন। তিনি আরও একটি ভুলের উদাহরণ দেন, যেখানে ‘মহম্মদ ইকবাল বেগ’-এর নামের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘মহম্মদ ইকবাল ভীখ মাংতে হ্যায়’। নবদীপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। প্রবল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইল সিইও দফতর।