অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: চলতি বছরে বিগত চার মাসে রাজ্যে দু’বার পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের। জুলাইয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনে মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল এনকাউন্টারে। সোমবার রাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। দু’ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয়।
এই এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে খোলাখুলি সমর্থনে মুখ খুলেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, তিনি একশো শতাংশ এনকাউন্টারের পক্ষে। আরজি কর কাণ্ডে তাঁর মেয়ের ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি নেওয়া হলে তিনি খুশি হতেন।
রত্নার বক্তব্য, “আমার মেয়ের মতো ঘটনায় এনকাউন্টার হয়েছে। ছেলেটির মায়ের হয়তো কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তিনি ছেলেকে ঠিক করে মানুষ করতে পারেননি। যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখে, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। আমি এই এনকাউন্টার সমর্থন করি। এতে যারা এমন অপরাধ করছে, তারা ভয় পাবে।” এনকাউন্টারের পাশাপাশি নেশাকেও অপরাধের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, মদ-সহ সমস্ত নেশাজাত দ্রব্য রাজ্যে নিষিদ্ধ করা উচিত, তাহলে ধর্ষণ-খুনের মতো অপরাধ কমবে।
নিজের মেয়ের প্রসঙ্গ টেনে রত্না আগের ও বর্তমান সরকারের তদন্তে ফারাকের কথাও বলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর মেয়ের ক্ষেত্রে আগের সরকার অপরাধীদের ধরার চেয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বেশি ব্যস্ত ছিল, এমনকি তাঁর এলাকার তৎকালীন বিধায়কও সেই চেষ্টায় ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ের ঘটনার পুনর্নির্মাণও হয়নি, তবে এখন তদন্ত এগোচ্ছে এবং তিনি বিচারের আশায় রয়েছেন।