গুস্সা কারে কয়
গুস্সা তো এমনি এমনি আসে না। যত হলে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লোকে যতই বলুক যুদ্ধবাজ দেশের সর্বাধিনায়ক। পান থেকে চুন খসলেই যিনি মিশাইল ছোঁড়েন, তিনি হঠাৎ দাবি করে বসলেন বিশ্বের ডজন খানেক যুদ্ধ বন্ধ করেছেন তিনি। অতএব, বিনাবাক্যে তাঁর নোবেল পাওয়া উচিত। সুপারিশের জন্য কম চেষ্টাও করেননি। কানাডায় বিশ্বনেতাদের মহাসম্মেলন ছেড়ে তিনি পাক সেনাপ্রধানকে আপ্যায়ন করতে ছুটে এসেছিলেন ওয়াশিংটনে। তাঁবেদার পাকিস্তানকে তো এককথায় পেয়ে গেলেন। ইজরায়েলও ছিল। কিন্তু দরকার ছিল অন্তত আরেকটি দেশের সুপারিশ। আশায় ছিলেন মোদী তাঁর ব্যাকুলতায় সাড়া দেবেন। কারণ, তাঁদের ঢোলাঢুলি গোপন ছিল না। দুই নেতার মধ্যে মিত্রতার আড়ম্বর দেখেছে সারাবিশ্ব। ফলে ভারত তাঁর সাধ পূরণে আগ্রহী হবে এমনটাই ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তা হল না। যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তিরূপ বিঘ্নিত হল। মাথায় চুল্লি চাপলো। রোশানলে পড়লো ভারত। এসব অবশ্য নিন্দুকেরাই বলে থাকেন। যে কারণেই নাকি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাকে খারিজ কী করে করে নোবেল কমিটি। এটাও ভাববার বিষয়। সেই দুঃখে মলম দিতে নিজের নোবেল প্রাইজ উপহার দিতে ওয়াশিংটন ছুটলেন ভেনেজুয়েলার সদ্য সর্বাধিনায়িকা ডেলসি রদ্রিগেজ। কিন্তু অন্যের নোবেল কী আর নিজের হয় ! ঘোলে কী দুধের স্বাদ মেলে। অগত্যা নোবেলের স্বপ্ন, স্বপ্নেই থেকে গেল। সেই হতাশা ভোলার নয়। একবছরেও সেই গুস্সা যে ম্লান হয়নি তা ফের বুঝিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নরওয়েকে সরাসরি ‘ঘৃণ্য দেশ’ বলে দাগিয়ে দিলেন। কোপ এসে পড়েছে আমেরিকায় বসবাসকারী নরওয়েজিয়ান অভিবাসীদের উপর। আমারিকায় তাঁদের জন্য নো-এন্ট্রি টাঙিয়ে দিলেন। আগামী সপ্তাহে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উগরে দিলেন নরওয়ের প্রতি তাঁর জোরালো বিতৃষ্ণা।