নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মণ্ডপ অক্ষত রেখেই প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হল চোরবাগানে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপ এখনও ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখায় সেখানে লক্ষ্মীপুজো করা গেল না। রবিবার ক্লাবঘরের পাশে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চেই হল লক্ষ্মীপুজো।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী মণ্ডপ পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে, কিন্তু প্যান্ডেল রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী শুক্রবার মণ্ডপের গেটের একাংশ কেটে শনিবার দুপুরে প্রতিমা বের করে নিরঞ্জন করা হয় পুলিশি প্রহরায়।
এরপরই প্রশ্ন ওঠে, একই মঞ্চে রীতি মেনে লক্ষ্মীপুজো হবে কীভাবে? দুর্গাপুজোর মঞ্চেই লক্ষ্মীপুজো করার রীতি। কিন্তু প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মণ্ডপে পুজোর অনুমতি দেয়নি সিট। তাই অমর বসু সরণীতে ক্লাবঘরের পাশে আগে থেকে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চেই রবিবার পুজোর আয়োজন করা হয়।
এদিন পুজো চলাকালীনই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় এই কাণ্ডে ধৃত ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে। নদিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁকে মণ্ডপ ও ক্লাবঘরে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করায় পুলিশ। জেরাও করা হয়।
অন্যদিকে আর এক ধৃত ঘোষক কুশল মজুমদারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রেপ্তারের পর একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সপ্তমীর সন্ধ্যায় এক পুলিশকর্মীর কথাতেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন। কে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা অবশ্য জানানো হয়নি। সিট এখন সেই দাবি খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ৮০ থেকে ৯০ জন পুলিশকর্মী ডিউটিতে ছিলেন। তবে তাঁরা মণ্ডপের ভিতরে নয়, বাইরে যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন। ভিতরের নিরাপত্তায় ছিল বেসরকারি সংস্থার রক্ষীরা। সিট এখন দেখছে, ওই সময় কে কোথায় ডিউটিতে ছিলেন এবং ঘোষণার পিছনে পুলিশের কোনও ভূমিকা ছিল কি না।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ২৫ জন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।