ওঙ্কার ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামার কথা নয়াদিল্লির আগেই ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই পদক্ষেপ নিয়ে জোর জলঘোলা হয়েছিল। যদিও ভারতের তরফে জানানো হয়েছিল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা ছিল না। এ বিষয়ে এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অনিল চৌহান। সেখানেই সংঘর্ষবিরতির নেপথ্যের কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও-র মধ্যে আলোচনার পরই সংঘর্ষবিরতি চূড়ান্ত হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়ক জানান, সংঘর্ষবিরতির সময় ঠিক করার আগে দুই দেশের ডিজিএমও ফোনে কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তবে পাকিস্তানের ডিজিএমও জানান, তিনি দুপুর ৩টে পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। এরপর বিকেল ৩টে নাগাদ ফের আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পর বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষবিরতির সময় চূড়ান্ত করা হয়।
প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়কের কথায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর বাইরে আর কারও ভূমিকা ছিল না। তবে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের খবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারেননি অনিল চৌহান। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনিও নিশ্চিত নন। তবে ভারতের তরফে ওই তথ্য ফাঁস করা হয়নি বলেই তাঁর দাবি। তিনি আরও জানান, ডিজিএমও পর্যায়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। দুই পক্ষই সেই আলোচনার বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তাঁর অনুমান, কোনওভাবে পাকিস্তানের দিক থেকেই তথ্য বাইরে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ, তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পাকিস্তানের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়ক।
উল্লেখ্য ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতার ফলেই ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত থেমেছিল।তবে নয়াদিল্লি বরাবরই সেই দাবি নাকচ করেছে। ভারত সরকারের একাধিক প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন বলে জানা যায়।