ওঙ্কার ডেস্ক: এনআইএ–র দীর্ঘ তৎপরতার ফলস্বরূপ অবশেষে আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হল কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের ভাই অনমোল বিশ্নোইকে। পাঞ্জাবি গায়ক সিদ্ধু মূসেওয়ালা খুনের পর দেশে পালিয়ে যাওয়া অনমোলকে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুঁজছিল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সোমবার গভীর রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকেই এনআইএ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, অনমোল বিশ্নোইয়ের বিরুদ্ধে দেশে কমপক্ষে আঠারোটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তোলাবাজি, হামলা, অস্ত্র সরবরাহ, অপরাধচক্র পরিচালনা বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর নামে একাধিক চার্জশিট দাখিল হয়েছে। ২০২২ সালে মূসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসার পরই গা-ঢাকা দেন অনমোল। অভিযোগ, জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রথমে নেপাল হয়ে দুবাই এবং পরে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন তিনি। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেন।
কিন্তু আমেরিকার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বিভাগ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাঁর আশ্রয় আবেদন বাতিল হয় এবং ভারত সরকারের অনুরোধে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এনআইএ–র একটি বিশেষ দল তাঁকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে দেশে নিয়ে আসে।
এনআইএ জানিয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে বসে অপরাধ চক্র চালানো ছাড়াও বিদেশে থেকেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন অনমোল। তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধচক্রের অর্থলাভ, অস্ত্র সরবরাহের পরিকাঠামো এবং ভারতে থাকা সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে অনমোল বহু অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দিল্লিতে এনে তাঁকে প্রথমে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। এরপর একটি বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে এনআইএ–র হেফাজত মঞ্জুর করে আদালত। সংস্থার দাবি, অনমোলকে জেরা করলে মূসেওয়ালা হত্যায় ব্যবহৃত পরিকল্পনা, অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক, বিদেশে থাকা গ্যাংয়ের অর্থলাভের উৎস এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এনআইএ–এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি চক্র বিদেশে পালিয়ে গিয়ে নাশকতা ও আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। অনমোলকে দেশে ফিরিয়ে আনা সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাঁর মাধ্যমে গ্যাংস্টার কার্যকলাপের আন্তর্জাতিক রুট, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, অনমোলকে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে। বিভিন্ন জেলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক যাতে সক্রিয় হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পালিয়ে থাকা এই দুষ্কৃতীর গ্রেফতার ভারতীয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দেবে।
