ওঙ্কার ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের ভারত–চিন সীমান্তসংলগ্ন হায়ুলিয়াং–চাগলাগাম সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিকের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় এক হাজার ফুট নিচের খাদে পড়ে যায়। ট্রাকটিতে মোট ২১ জন শ্রমিক ছিলেন, যাঁরা অসমের তিনসুকিয়া জেলা থেকে নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ বিষয়টি টের পায়নি। একমাত্র জীবিত শ্রমিক আহত অবস্থায় কোনোভাবে পথ চলতে চলতে স্থানীয় এলাকায় পৌঁছনোর পর খবরটি প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়, তারপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ট্রাকটি পড়ে যাওয়ার ধাক্কা এতই ভয়ঙ্কর ছিল যে যানটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে–মুচড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক অনুমানে অন্তত ১৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি খাদে নেমে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় মৃতদেহ উদ্ধার করতে প্রবল সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধাপে ধাপে খাদে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ চালাচ্ছে। আহত শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসার জন্য অসমে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ উদ্ধারকর্মীদের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। খাদটি অতি গভীর ও পাথুরে, তার উপর খাড়া ঢালু পাহাড়ে রাস্তা খুবই সরু ও বিপজ্জনক। সেনা, এনডিআরএফ, স্থানীয় পুলিশ ও জিআরইএফ কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় লজিস্টিক সহায়তা পৌঁছনোও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনিশ্চিত হওয়ায় উদ্ধার কাজে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, গভীর রাতে পাহাড়ি পথে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র বাঁকযুক্ত রাস্তায় চালকের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে ট্রাকটি সোজা খাদে গড়িয়ে পড়ে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শ্রমিকদের পরিবারে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করছে। দুর্ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে, এবং উদ্ধারকারীরা এখনও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন খাদে আটকে থাকা দেহ ও সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধানে।
