কুশল চক্রবর্তী
“শীত গ্রীষ্ম বর্ষা হেডেই ভরসা” অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রেমীদের এখন বোধহয় এই স্লোগান । বিশ্ব ক্রিকেটের তিন ধরনের ফর্মেটেই হেড এখন বিস্ময়কর ইনিংস খেলে দিচ্ছেন। দেখুন ২০২৩ সালে বিশ্ব ক্রিকেটের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে যে ১৬৩ রানের ইনিংস খেলছিলেন, সেটাই ছিল ভারতের পরাজয়ের কারণ। অস্ট্রেলিয়া দল ৭৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ট্রেভিস হেড দলকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে এসেছিলেন ১৬৩ রানের অনবদ্য ইনিংসটা খেলে।
তেমনই ২০২০-২১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টে ১৫৩ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে সেই টেস্ট সিরিজে ৪-০ জেতার সুচনা করেন। আর এবারের সিরিজের পার্থ টেস্টে ৬৫ বলে সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়া দলকে আট উইকেটে জয়ের রাস্তা করে দিলেন। আজ অবধি বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্টে কোনও দলের ব্যাটার রান তাড়া করে চতুর্থ ইনিংসে এত দ্রুত সেঞ্চুরি করতে পারেনি। শুধু তাই নয় পারথের এই পিচে, যেখানে কিনা পেস বোলিং এর বিপক্ষে খেলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সহ খেলোয়াড় উস্মান খোয়াজার প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে রেখে ওপেনিং করে দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের পথে। একদিনের ক্রিকেটেও কিন্তু কম যান না এই ট্রেভিস হেড। ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে ১২০ বলে ১৩৭ রান করে একার হাতেই ভারতের এক দিনের বিশ্বকাপ জেতার আশায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের টেন্ট ব্রিজে ২০২৪ সালে ১২৯ বলে ১৫৪ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে ছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

টি২০ ক্রিকেটেও কম যান না, ট্রেভিস হেড। তার ব্যাট থেকে টি২০ তে এখনও সেঞ্চুরি আসেনি বটে। কিন্তু দ্রুত রান তুলেতে তিনি সিদ্ধহস্ত। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে ৯১ রান করেছিলেন আর ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউথাম্পটনে ২৩ বলে ৫৯ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ট্রাভিস হেড যেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে বা হাতি মিডল অর্ডারের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম খেলোয়াড়। এর আগে মাইকেল হাসি আর মাইকেল বিভানকেও এমন ভাবেই খেলতে দেখা গেছে।
