নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। চার্জশিটে নাম রয়েছে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল-সহ মোট ১৮ জনের। তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষ ও স্বপন সমাদ্দারও। সোমবার আদালতে চার্জশিট জমা পড়তেই ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক হিংসা। সেই সময় বেলেঘাটায় খুন হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। তাঁর পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে এই খুন করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট সেই ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিবিআইকে। সিবিআই প্রথমে একটি চার্জশিট জমা দিলেও তদন্ত চলাকালীন নতুন করে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতে আসে তদন্তকারীদের। তার ভিত্তিতেই সোমবার আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, নতুন প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, দুই কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষ ও স্বপন সমাদ্দার-সহ আরও ১৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮-তে।
সিবিআইয়ের চার্জশিট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‘তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নিরীহ কর্মীদের উপরে হামলা চালিয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম, একদিন না একদিন সব সত্যি সামনে আসবে। সিবিআইয়ের চার্জশিট সেই প্রমাণই দিচ্ছে।’’ তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করেছে। শাসক দলের মুখপাত্রের দাবি, ‘‘২০২১-র হিংসা নিয়ে বিজেপি শুরু থেকেই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। সিবিআইকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত করানো হচ্ছে। এটা কোনও চার্জশিট নয়, বিজেপির রাজনৈতিক লিফলেট। আদালতে আমরা এর যোগ্য জবাব দেব।’’
রাজনৈতিক বচসার মাঝে অভিজিৎ সরকারের পরিবারের চোখে ফের একবার ভেসে উঠেছে ন্যায়বিচারের আশা। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সিবিআইয়ের নতুন চার্জশিটে নতুন করে আশার আলো দেখছি।’’
