ওঙ্কার ডেস্ক : ২৫ জুন ২০২৫, বুধবার, ভারতীয় সময় তখন দুপুর ১২টা বেজে ১ মিনিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্সের ৩৯ থেকে আকাশে উড়ল স্পেস এক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযান। গন্তব্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র (ISS)। আর তারই ককপিটে বসে আছেন একজন ভারতীয়, নাম শুভাংশু শুক্ল। এই মুহূর্তে তিনি শুধু একজন নভশ্চর নন, হয়ে উঠেছেন ১৪০ কোটি ভারতবাসীর গর্ব ও অনুপ্রেরণা। ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মার ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান ভারতীয় মহাকাশ ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা। তারপর কেটে গিয়েছে ৪১ বছর। সেই দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পৌঁছলেন ভারতের শুভাংশু।
লখনউয়ের আলিগঞ্জে জন্ম শুভাংশুর। ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর। বাবা শম্ভুদয়াল শুক্ল, এক সরকারি চাকুরিজীবী। মা আশা শুক্ল একজন সাধারণ গৃহবধূ। সিটি মন্টেসরি স্কুলে পড়াশোনা করা এই ছেলেটির মধ্যে তখনই শিক্ষকরা দেখতে পেয়েছিলেন অন্য এক সম্ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শুভাংশু ইচ্ছা করলে দেশের সেরা কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারতেন। কিন্তু তার মন পড়ে থাকত আকাশে। প্রথম চেষ্টাতেই পেরোলেন ন্যাশেনাল ডিফেন্স একাডেমি। সেখান থেকে স্নাতক হওয়ার পর ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন ২০০৬ সালে। মাত্র ২২ বছর বয়সে ফাইটার পাইলট হন তিনি। Su-30, Jaguar, MiG-21, MiG-29 বিমান চালানোর সুযোগও পান শুভাংশু। ২০০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ান অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে।

২০১৯ সালে গগনযান প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন শুভাংশু। পাঠানো হয় রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন কসমোনট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেখানেই মহাকাশ প্রশিক্ষণ পান। এরপর আসে আরও বড় সুযোগ বেসরকারি স্পেস সংস্থা Axiom Space-এর ‘Axiom Mission 4’-এ তাঁকে বেছে নেওয়া হয় পাইলট হিসেবে। ফ্যাল্কন-৯ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হয় ড্রাগন মহাকাশযান। মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে যান শুভাংশুরা। তিনি এই মিশনের প্রধান পাইলট। তাঁর সহযাত্রীদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন নাসার নভোচর পেগি হুইটসন (মিশন কমান্ডার), হাঙ্গেরির টিবর কাপু ও পোল্যান্ডের স্লাওস উজানানস্কি। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৪ দিন কাটাবেন। এই সময়কালে প্রায় ৬০টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবেন।
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে শুভাংশুর মা বলেন, “ও তো আমার ছোট ছেলে, চিন্তা হয় ঠিকই, কিন্তু গর্বও হয় খুব। আজ সারা দেশ ওর জন্য প্রার্থনা করছে।” শুভাংশুর বাবা বলেন, “ওর স্বপ্ন আমাদেরও স্বপ্ন হয়ে উঠেছে। আমার ছেলে আজ শুধু আমার নয়, দেশের ছেলে।” একটা দু’কামরার ঘর, থেকে একদিন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন শুভাংশু। আর তাঁর হাত ধরে এক জাতির স্বপ্নও আজ পৌঁছেছে আকাশ ছোঁয়া বাস্তবতায়।
