রাজ্য সরকারের ‘সেবা সেতু’ শিবিরেই এবার বিক্ষোভের আঁচ। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলারা। শুক্রবার দুটি পৃথক ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার থেকে হুগলির পোলবা-দাদপুর, দুই জায়গাতেই শিবিরে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল।
প্রথম ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবার ১ নম্বর ব্লকের সংগ্রামপুরে। অভিযোগ, শুক্রবার সকাল থেকেই সংগ্রামপুর ‘সেবা সেতু’ কেন্দ্রে ভিড় জমান শতাধিক মহিলা। তাঁদের দাবি, মাসের পর মাস আবেদন করেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে। কেন টাকা আসছে না, তার সদুত্তর চান তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট জবাব না মেলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ মহিলারা ‘সেবা সেতু’ কেন্দ্রের ভেতরে থাকা চেয়ার আছড়ে ভেঙে ফেলেন। মুহূর্তে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
একই ছবি দেখা গেল হুগলির পোলবা-দাদপুর ব্লক অফিসেও। সেখানে ‘সেবা সেতু’ শিবিরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প – বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, আবাস যোজনার নাম নথিভুক্তির জন্য দীর্ঘ লাইন পড়েছিল। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন একদল উপভোক্তা। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না, অথচ অযোগ্যরা সুবিধা পাচ্ছেন। অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবে আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। ক্ষোভের বশে শিবিরের চেয়ার-টেবিল উল্টে ফেলা হয় এবং টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা অনুপমা দাস বলেন, “তিন-চার মাস ধরে ঘুরছি। সব কাগজ জমা দিয়েছি, তাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাইনি। আমরা গরিব মানুষ, যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হচ্ছি।”
যদিও এই অশান্তিকে ছোট ঘটনা বলেই দাবি করেছে শাসক শিবির। বিজেপি কর্মী সত্যজিৎ সরকার বলেন, “মানুষকে অধৈর্য হলে চলবে না। আজকের শিবিরে অন্নপূর্ণা নিয়ে কোনও কর্মসূচি ছিল না, তাও অনেকে চলে এসেছিলেন। তাই একটা ছোট ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা বলছি, একটু অপেক্ষা করুন, সবাই পাবেন।”b