দলত্যাগ বিরোধী আইনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের বিধায়ক পদ বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল না শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, ২০২০ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁকে যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া উচিত, সাধারণত তিন মাসের মধ্যে। স্পিকার সেই সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। এই মামলায় আপাতত নতুন করে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না।
গত ৮ জুলাই স্পিকারের কাছে ঋতব্রতদের পদ খারিজের আবেদন জমা দিয়েছিলেন শোভনদেব। সেই হিসেবে ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই বিষয়ে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মমতা শিবিরের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিন মাসের মধ্যেই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সিদ্ধান্ত না হলে তাঁরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হবেন কিনা, তা এখনই স্পষ্ট করেননি তিনি।
এর আগে বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন শোভনদেব। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। হাই কোর্টে সওয়ালে কল্যাণবাবুর যুক্তি ছিল, কয়েকজন বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে দলের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন না। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের আগেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রতকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা করা যায় না।
যদিও স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি হাই কোর্ট। গত ১৮ অগস্ট বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দু’মাসের মধ্যে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চকে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে, তার আগে স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের পদ খারিজ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা শিবির।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ১০ বিধায়ককে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নোটিস দেন স্পিকার।
এদিকে দুই শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানায়, আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করা হচ্ছে। আসল দল কে, তহবিলের মালিকানা কার, তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক সিন্দুকেই থাকবে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার দুই শিবিরের জন্য অন্তর্বর্তী নাম-প্রতীক চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতা শিবিরের নাম হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ফুটবল। ঋতব্রতদের দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক খাম। নন্দীগ্রামে মমতা শিবির প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে।