রোদে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হতে পারে। এর কারণে ত্বকের স্বাভাবিক রঙের তুলনায় কিছু অংশ গাঢ় বা কালচে দেখায়। এই সমস্যাকে সাধারণভাবে ‘ট্যান’ বলা হয়। ত্বকের এই অতিরিক্ত কালচে ভাব কমিয়ে ত্বককে পরিষ্কার, সতেজ ও উজ্জ্বল দেখানোর জন্য অনেকেই ডি-ট্যান ট্রিটমেন্ট করান।
ডি-ট্যান করার উপকারিতা কী?
ডি-ট্যানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ ও রোদে তৈরি হওয়া ট্যানের দৃশ্যমানতা কমানো। সঠিকভাবে করা হলে এটি ত্বককে কিছুটা উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া মৃত কোষ দূর হওয়ার ফলে ত্বকের টেক্সচার তুলনামূলকভাবে নরম ও পরিষ্কার অনুভূত হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ডি-ট্যান ত্বকের স্থায়ী রঙ পরিবর্তন করে না। এটি মূলত সূর্যের কারণে হওয়া সাময়িক কালচে ভাব কমানোর একটি কসমেটিক পদ্ধতি।
ডি-ট্যান কীভাবে করা হয়?
ডি-ট্যান সাধারণত পার্লার বা স্কিনকেয়ার ক্লিনিকে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ও নানান পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়। প্রথমে ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ডি-ট্যান প্যাক, মৃদু এক্সফোলিয়েটিং উপাদান বা অন্যান্য স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পর প্যাক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা সানস্ক্রিম লাগানো হয়।
বাড়িতে ডি-ট্যান করতে চাইলে খুব শক্তিশালী স্ক্রাব বা অ্যাসিডজাতীয় উপাদান নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক, ব্রণ বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
ডি-ট্যানের পর কী করবেন?
ডি-ট্যান করার পর ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত SPF-এর ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিম ব্যবহার করা, প্রয়োজনে পুনরায় লাগানো এবং রোদ থেকে ত্বক ঢেকে রাখা উচিত।
সবশেষে, ডি-ট্যানকে ত্বকের স্থায়ী ফর্সাভাবের উপায় হিসেবে না দেখে রোদে তৈরি ট্যানের দৃশ্যমানতা কমানোর একটি স্কিনকেয়ার পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি বেছে নিলে ত্বক আরও সতেজ ও পরিচ্ছন্ন দেখাতে পারে।