
নয়ন বিশ্বাস রকি
একটি প্রশ্ন আজ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। তারেক সরকারের আমলে কি বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ ? জাতীয় গ্রন্থাগার, স্কুলের পাঠাগার, বইমেলা থেকে কি এই বই সরিয়ে ফেলা হচ্ছে ? যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে এই সরকার কীসের ভয়ে ভীত ?
জাতির ভেদা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শ। তিনি একটি ইতিহাস। তিনি বাঙালির প্রতিটি ঘরে ঘরে আছেন। মানুষের হৃদয়ে আছেন। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের আপামর মানুষ।
১৯৭১ সালে যে মানুষটি একটি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যে মানুষটি কারাগারে বসে লিখেছিলেন “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” – সেই বই শুধু একটি বই নয়। এটি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের দলিল। এটি বাঙালির মুক্তির সনদ। এই বইতে আছে ভাষা আন্দোলনের কথা, আছে ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট, আছে ৬৬’র ছয় দফা, আছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। এই বই পড়লে একজন তরুণ জানতে পারে কিভাবে একটি দেশ জন্ম নেয়। তাহলে এই বইকে কেন ভয় ? মুজিবুরের বই নিষিদ্ধ করে কি বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্দুকে মুছে ফেলা যাবে ? বাংদেশের মানুষ মনে করে, তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিষিদ্ধ করলে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায় না। যারা বোকার স্বর্গে বাস করে তাদের এমন ধারনা হতে পারে।
বই নিষিদ্ধ করলে মানুষের হৃদয় থেকে কখনো নিষিদ্ধ করা যাবে না। বরং এটা আরও প্রসিদ্ধ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের মানুষ। ইতিহাস সাক্ষী, যে বই নিষিদ্ধ করা হয়, সেই বই আরও বেশি জনপ্রিয় হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তাঁর নাম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফল কি হয়েছিল ? বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছিলেন মানুষের হৃদয়ে। আজ যদি অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিষিদ্ধ করেন, কাল এটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আরও গভীরভাবে জায়গা করে নেবে।
কার চাপে এই সিদ্ধান্ত ? এই বই নিষিদ্ধ করার বুদ্ধি কে দিচ্ছে ? প্রশ্ন এখন জনতার হৃদয়ে। সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। এই দেশ দখল করেছে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আল-বদর বাহিনী। যারা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছিল, যারা পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে মিলে বাঙালি হত্যা করেছিল, তারাই আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তারাই চাপ দিচ্ছে – “বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলো। অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিষিদ্ধ করতে। কারণ তারা জানে, এই বই যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে রাজাকারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এই বই যতদিন থাকবে, ততদিন নতুন প্রজন্ম জানবে কারা দেশপ্রেমিক আর কারা দেশদ্রোহী। তাই, এই বই তাদের জন্য আতঙ্ক। কারণ বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাকিস্তানিদের পরাজয়ের কথা আছে। রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচনের কথা আছে।
আজ সময় এসেছে সত্য কথা বলার। এই দেশ যদি স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে যায়, তাহলে আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত বৃথা যাবে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী কোনো আওয়ামী লীগের বই না। এটি বাংলাদেশের বই। আপনি বিএনপি করতে পারেন, জাতীয় পার্টি করতে পারেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করলে আপনি বাংলাদেশকেই অস্বীকার করলেন। তাই এই দেশকে রক্ষা করতে হবে। রাজাকার আল-বদর বাহিনীর হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।
তাই আত্মজীবনী নিষিদ্ধের কোনো গোপন আদেশ হয়ে থাকে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। অবিলম্বে প্রতিটি স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে এই বই বাধ্যতামূলক করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এই বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে। মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধুকে বই দিয়ে মাপা যায় না। তিনি আকাশের মতো বিশাল। একটি বই নিষিদ্ধ করলে তার আকাশ ঢেকে যাবে না। বরং আপনারা যত নিষিদ্ধ করবেন, বঙ্গবন্ধু ততই মানুষের শ্রদ্ধার, ভালোবাসার, হৃদয়ের মণিকোঠায় অমর হয়ে থাকবেন। কারণ বাঙালি কৃতজ্ঞ জাতি। তারা তাদের জাতির পিতাকে ভুলবে না।