মেকআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কনসিলার। চোখের নিচের কালচে দাগ, ব্রণের দাগ, লালচে ভাব কিংবা ত্বকের ছোটখাটো অসমতা ঢেকে মুখকে আরও সমান ও পরিপাটি দেখাতে কনসিলার ব্যবহার করা হয়। তবে সুন্দর ফিনিশ পাওয়ার জন্য শুধু কনসিলার ব্যবহার করলেই হবে না, সঠিক পদ্ধতিও জানা জরুরি।
কনসিলার ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। দিনের মেকআপ হলে সানস্ক্রিম ব্যবহারের পর কনসিলার লাগানো যায়। সাধারণত যে জায়গায় দাগ বা কালচে ভাব বেশি, সেখানে অল্প পরিমাণ কনসিলার দিয়ে আঙুল, ব্রাশ বা পরিষ্কার মেকআপ স্পঞ্জের সাহায্যে হালকা হাতে ব্লেন্ড করতে হবে। বেশি কনসিলার ব্যবহার করলে দাগ ঢাকার বদলে মেকআপ ভারী ও কৃত্রিম দেখাতে পারে। চোখের নিচের অংশে বিশেষভাবে আলতোভাবে কাজ করা উচিত, কারণ এই এলাকার ত্বক তুলনামূলক সংবেদনশীল।
কনসিলার ব্যবহারে সাধারণত সমস্যা হয় না, তবে ভুল পণ্য বা অপরিষ্কার মেকআপ সামগ্রী ব্যবহারে ব্রণ, ত্বকের জ্বালা, র্যাশ বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে “non-comedogenic” বা “won’t clog pores” লেখা পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য fragrance-free এবং sensitive-skin উপযোগী পণ্য বিবেচনা করা যেতে পারে। নতুন কোনো পণ্য মুখে ব্যবহারের আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়াও উপকারী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেকআপ পরিষ্কার রাখা। কনসিলার, ব্রাশ বা স্পঞ্জ অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। নিয়মিত ব্রাশ ও স্পঞ্জ পরিষ্কার করতে হবে এবং পুরোনো বা পরিবর্তিত গন্ধ, রং কিংবা গঠনযুক্ত মেকআপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে।
তাই কনসিলার নিজে থেকেই ক্ষতিকর—এমনটা বলা ঠিক নয়। বরং ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য নির্বাচন, পরিমিত ব্যবহার, পরিষ্কার সরঞ্জাম এবং রাতে মেকআপ তুলে ফেলার অভ্যাসই ত্বককে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।