নিজস্ব প্রতিনিধি, ঘাটাল, বীরসিংহ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দেখানো পথেই হেঁটে বাল্যবিবাহ রুখে দিল ঘাটালের তিন ছাত্রী। বীরসিংহের সেই সাহসী তিন কন্যা নূপুর চৌবে, শ্রেয়া অধিকারী ও তনুশ্রী সামন্তকে এবার সম্মান জানাল প্রসাশন। তাদের হাতে স্মারকলিপি, স্কুল ব্যাগ-সহ বিভিন্ন উপহার তুলে দিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার, বীরসিংহে বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথমবার বিদ্যাসাগরের পুণ্যভূমিতে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। যদিও এর আগে আমি পাঁচবার এসেছি।” তিনি বলেন, সরকারিভাবে ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস পালন করা হলেও, গ্রামের মানুষ আজও ১২ আশ্বিন, ৩০ সেপ্টেম্বর দিনটিই পালন করেন। বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচন করতে পারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়া তিন ছাত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দেখানো পথেই এই এলাকার তিন ছাত্রী বাল্যবিবাহ রুখে দিয়েছে। তাদেরকে আমি সম্মান জানাই।” প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঘাটালের উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এখানে আসার আগে তিনি আকাশপথে ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সঙ্গে রিলায়েন্স প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। জানান, রিলায়েন্স কোম্পানি এই রাজ্যে অনেক বিনিয়োগ করবে, আগামী দিনে কর্মসংস্থান হবে। উল্লেখ্য়, আজ, বুধবারই নবান্নে আসছেন রিলায়েন্স কোম্পানি শীর্ষ আধিকারিকরা।
বিদ্যাসাগরের গ্রাম বীরসিংহকে একটি আদর্শ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, লাইব্রেরি সম্প্রসারণ, মিউজিয়াম তৈরির কথা বলেন। যাতে নবজাগরণের অগ্রদূতের জন্মস্থান দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সবে পাঁচ মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা আগামী দিনে সকলেই পাবেন। পশ্চিমবঙ্গকে নেশামুক্ত রাজ্য করতে সামাজিক সংস্কারের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিদ্যাসাগরের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৮২০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পারিবারিক পরম্পরা থেকে বেরিয়ে বিধবা বিবাহ প্রচলন করেছিলেন। নারী শিক্ষার প্রসারের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে নিশানায় নিয়ে তিনি বলেন, সকলকে এপাং-ওপাং-ঝপাং বই না কিনে বিদ্যাসাগরের বই কিনে লাইব্রেরিতে রাখার আবেদন জানান।
এদিন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণাও করেন তিনি। বীরসিংহের নারায়ণ চন্দ্রের ভিটে থেকে স্মৃতি বিজড়িত পুকুর সংরক্ষণ ও কংক্রিটের রাস্তা তৈরির জন্য ৫০ লক্ষ টাকা, বীরসিংহ ভগবতী দেবী বিদ্যালয়ের নির্মাণের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা এবং বীরসিংহ থেকে ঘাটাল হয়ে পাঁশকুড়া পর্যন্ত রাস্তার জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়াও বীরসিংহে একটি ট্যুরিজম হস্টেল ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান।
ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকার জন্য ত্রাণ সামগ্রী ও সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজের অগ্রগতির জন্য ঘাটাল ও দাসপুরের বিধায়ককে বিশেষ দায়িত্ব দেন। জেলাশাসক ও বিডিওদের কাঁচা বাড়ির তালিকা তৈরি করে পাকা বাড়ি করে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন। পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল হয়ে রেললাইনের জন্য কাগজ রেলমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।