ওঙ্কার ডেস্ক: ৩ জুলাই বুধবার টিউশন থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতিদের হাতে অপহরন হয়েছিলেন বছর ১৩ র নিশ্চিথ এ। পরে মুক্তিপন চেয়ে ফোন আসে পরিবারে কাছে। পরিবারের লোকজন অপহরনের মামলা দায়ের করলে বৃহস্পতিবার কাগগলিপুরা এলেকায় এক ঝোপঝাড়পুর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ঐ কিশোরের অর্ধদগ্ধ দেহ ।
সুত্রের খবর, বুধবার নিজের বাড়ি থেকেই টিউশনের জন্য বের হয় নিশ্চিথ। সন্ধ্যে সাতটার পর নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফিরলে টিউশন শিক্ষিকাকে ফোন করা হয়। তিনি জানান, নিশ্চিথ সঠিক সময়েই বাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা হয়ে গেছে। কিন্তু সঠিক সময় বাড়ি না ফিরলে উদ্বিগ্নতা বারতে থাকে পরিবারের লোকজনদের। প্রাথমিক ভাবে খোঁজা শুরু হলে সংলগ্ন পার্ক থেকে ঐ কিশোরের সাইকেল উদ্ধার হয়, যা অপহরনের সময় নিশ্চিথের কাছেই ছিল বলে অনুমান।
বৃহস্পতিবার রাতেই নিশ্চিথের বাবা জয়চন্দ্র আচিতের কাছে ছেলে নিশ্চিথের অপহরনের প্রসঙ্গে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। এবং মুক্তিপন বাব্দ ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। মুক্তিপনের ফোন আসাতে নিজের সন্তানের কথা ভেবে অপহরনের মামলা দায়ের করা হয় হুলিমাভু থানায়। তদন্ত চলাকালিন বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্গালোরের দক্ষিন দিকের কাগগালিপুর এলাকা থেকে নিশ্চিথের অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হুলিমাভু থানার পুলিশ জানিয়েছে, “প্রাথমিক ভাবে ঐ মৃতদেহের পোষাক দেখেই অনুমান করা হয়েছিল উনি নিশ্চিথ এ। ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ফরেন্সিক টীম পৌঁছে এলাকা খতিইয়ে দেখা শুরু করেছে”। তিনি আরও জানিয়েছেন, “ঠিক কী কারনে অপহরন করে খুন করা হল ঐ শিশুকে তাও দেখা হচ্ছে। শুধুমাত্র মুক্তিপনের জন্য খুন নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারন আছে সে বিষয়ে তদন্ত চালাছে পুলিশ”। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জরিত সব দিক ভালো ভাবে দেখছে হুলিমাভু থানার পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যে নম্বর থেকে মুক্তিপন চেয়ে ফোন করা হয়েছিল সেটিও নজরে রেখেছে পুলিশ।
১৩ বছর বয়সী এক ফুটফুটে প্রাণ এভাবে অকালে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না পরিবারে লোকজন। নিশ্চিথের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ এলাকা। দোষীদের দ্রুত এবং উপযুক্ত শাস্তি চায় পরিবার।
