নিজস্ব সংবাদদাতা :
ভারতীয় ছবি ‘পিঞ্জর’ নির্বাচিত হয়েছে ১৬তম শিকাগো দক্ষিণ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য। এছাড়াও ছবিটি অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে সিডনির ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, কানাডিয়ান প্রিমিয়ারের জন্য টরন্টোর ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এবং ইউরোপীয় প্রিমিয়ারের জন্য এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বার্সেলোনায়।
ভারতে ছবিটি নির্বাচিত হয়েছে ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)-এর বাংলা প্যানোরামা প্রতিযোগিতা বিভাগে, যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুদ্রজিৎ রায় এবং প্রযোজনা করেছে চেসিং ড্রিমস ফিল্মস। অভিনয়ে রয়েছেন মমতা শঙ্কর, জয় সেনগুপ্ত, শতাক্ষী নন্দী, সাগ্নিক মুখার্জি, সামিউল আলম, মল্লিকা ব্যানার্জী, ঈশান মজুমদার, তথাগত মুখার্জি ও স্বস্তিদীপা রবিদাস।
‘পিঞ্জর’-এ দেখানো হয়েছে সমাজের এক গভীর প্রতিচ্ছবি—যেখানে মানুষ খাঁচাবন্দি পাখির মতো নিজেদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে বেঁচে থাকে। ডা. রুদ্রজিৎ রায়ের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘পিঞ্জর’ এক মর্মস্পর্শী আর্তি—স্বাধীনতা, অস্তিত্ব আর অদৃশ্য খাঁচার গল্প। বাংলার গ্রামীণ প্রান্তর ও শহুরে বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ছবিটি অবৈধ পাখি শিকার ও মানুষের অন্তর্গত বন্দিত্বের মধ্যে এক তীব্র সাদৃশ্য রচনা করেছে।

ঝিমলি, পারমিতা, শেফালি, তারক ও ইকবালের জীবনের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এক সমাজের রূপরেখা—যেখানে অশিক্ষা, দারিদ্র্য, ধর্মান্ধতা ও গার্হস্থ্য হিংসা মানুষের আত্মাকে বন্দি করে রাখে। জঙ্গলের যে পাখিকে জোর করে ধরে এনে খাঁচায় বন্দি করা হয়, সেই পাখিই যেন এই সমাজের এক নীরব প্রতীক—যেখানে নিষ্ঠুরতা ও আত্মসমর্পণকে আমরা প্রতিদিন স্বাভাবিক বলে মেনে নিই।
দুই বছরের গবেষণা ও গ্রামীণ মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে নির্মিত ‘পিঞ্জর’ অবৈধ পাখি ধরার প্রথাকে দেখেছে বাস্তবতার চোখে, আবার কবিতার সংবেদন দিয়ে। প্রতিটি দৃশ্যেই পাখিদের সুরক্ষা ও মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে—যেন সত্যিই খাঁচা খুলে দেওয়া যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ছবির ভাবনাকে সম্মান জানাতেই এই ছবিতে সুর দিয়েছেন রাতুল শংকর। কাজ করেছেন মমতা শংকর ও মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রায়ের মতো তারকারা। তাঁরা শুধুই সম্মানীয় হিসেবে নয়, ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্ত হয়েছেন এই ছবির সঙ্গে। আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত ‘পিঞ্জর’ আজ এক সাহসী প্রতিবাদ—আর এক কোমল স্মরণ: সব খাঁচাই একদিন খুলে দিতে হবে।
