উজ্জ্বল হোড়, জলপাইগুড়ি : ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস। এই দিনেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানের ৯০ হাজার সেনা। তারপরে জন্ম হয় নতুন রাষ্ট্র, বাংলাদেশের। দিনটি একটু আলাদা ভাবে পালন করেন অন্যতম প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা সোমনাথ চৌধুরী। পাক সেনার প্রচুর গোপন রহস্য ফাঁস করেছেন এই বাঙালি গুপ্তচর। ডুয়ার্সের মেটেলী চা বাগানের মূর্তি ডিভিশনের সর্দি লাইনের ফুটবল মাঠে গিয়ে ভারতীয় সেনা ও মুক্তি যোদ্ধাদের সম্মানে পুষ্পার্ঘ্য দেন সোমনাথবাবু। সেই মাঠেই ১৯৭১ সালে ছাউনি ফেলেছিল ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসতো বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ছাড়াও সেখানে শেখানো হতো গুপ্তচরবৃত্তি। এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা সেভাবে উন্নত নয় সেই বাগানে। সত্তরের দশকে সেটাই ছিল দুর্গম এলাকা। অত্যন্ত গোপনে সেই শিবিরে তৈরি হয়েছে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। এখন সেখানে আছে একটি মাঠ। পরে তৈরি হয়েছে ইঁটের তৈরি একটি বেদী। সেখানেই একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন মুক্তি যুদ্ধের ভারতীয় জেমস বন্ড সোমনাথ চৌধুরী অরফে চৌধুরী কাকা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোমনাথ চৌধুরী ছিলেন ঢাকায়। সেখানেই ইত্তেফাক উর্দু পত্রিকায় চিত্র সাংবাদিকের পেশা বেঁছে নেন তিনি। সেজন্য নিজের নাম পরিচয় বদলে নিতে হয়েছিল ছদ্মনাম, সমশের আলি। সেখানেই তিনি তৈরি করেন একটি সক্রিয় দল। পাক সেনার সমস্ত গতিবিধির ওপর নজর রাখতো সোমনাথের আস্থাভাজন সহকর্মীরা। তার সঠিক পরিকল্পনার জেরে নদীয়া জেলা লাগোয়া কুষ্টিয়া, ফরিদপুরের পাক সেনার তথ্য, ছবি হাত বদল হয়ে পৌঁছে যেত ভারতীয় সেনার কাছে। এই কাজে ঝুঁকি ছিল প্রচুর। ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হয়েও পৈতা খুলে লুকিয়ে রাখতেন মাদুলির ভেতরে। সোমবার মেটেলী বাগানে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে যান তিনি। বাংলার জেমস বন্ড জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান ছিল আমাদের, আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার কাজ করতো। খান সেনাদের থেকে তথ্য আদায়ের জন্য কথা বলতে হতো উর্দু ভাষায়। পড়তে হতো নমাজ।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর নিজের আসল পরিচয়ে ফিরে আসেন সোমনাথ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর সোমনাথ চৌধুরীর পরিবার চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গে। প্রথমে কোলকাতা এবং পরে ডুয়ার্সের চালসায় পাকাপাকি ভাবে থেকে যান তিনি। চালসা গোলাইয়ে চায়ের দোকান করে সংসার চালান বাংলার জেমস বন্ড।
