ওঙ্কার ডেস্ক : পদত্যাগ করতে পারেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। এমন গুঞ্জন প্রবল ভাবে ছড়িয়েছে বাংলাদেশে। তা আরও জোরাল হয় যখন বৃহস্পতিবার ইউনূসের বাসভবেন দেখা করতে যান জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাহিদ ইসলাম। ইউনূসের পদত্যেগের গুঞ্জন কানে আসায় তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায়। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নাহিদ দাবি করেছেন, পদত্যেগের কথা ভাবছেন সরকারের প্রধান। বিবিসি এই খবর প্রকাশ করেছে। এমন একটা সংকট দেখা দিতে পারে তা নিয়ে আগেই বিশ্লেষণ করেছে ওঙ্কার বাংলা। বৃহস্পতিবার ওঙ্কার বাংলার ডিজিটাল ও পোর্টাল নিউজে তা প্রকাশ পেয়েছে।
ইউনূসের আগমনকে যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ভালো চোখে দেখেনি তা প্রথম থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। সংস্কারমূলক কাজের নামে ইউনূস একের পর এক যে সব কাজ করে চলছিলেন তা মানতে পারছিল না বাংলাদেশ সেনা। তার উপর নানান ছুতোয় যে ভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস জাতীয় নির্বাচনকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে বোধ হয় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। নানান ইস্যুতে মতবিরোধ এখন তুঙ্গে। এমন অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, “গত ন’মাস ধরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অভিভাবকহীন”। এই কারণেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এমনিতেই বার বার সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধিতায় নেমেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, “অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনগণকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে ইউনূস সরকার”। এবার সেনাপ্রধান আরও এক ধাপ এগিয়ে ইউনুসের সরকারের সংস্কারের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। তিনি বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার কেবলমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে”। সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করা হচ্ছে। ঢাকার ‘সেনা দরবারে’ উপস্থিত সেনা অফিসারদের ওয়াকার বলেছেন, জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করণীয় তাই করবে সেনাবাহিনী। তাঁর কথায়, “ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়”। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য মহম্মদ ইউনুস সরকারের জন্য অশনি সঙ্কেত। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সেনা অভ্যুত্থান হতে চলেছে বাংলাদেশে ?
