নয়ন বিশ্বাস রকি
ইতিহাসে কিছু আন্দোলন থাকে যা জাতিকে মুক্তি দেয়, আর কিছু আন্দোলন থাকে যা জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালের তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী জুলাই আন্দোলন ছিল দ্বিতীয়টি। এই আন্দোলন নিয়ে মহাকাব্য লেখা যায়, তবে সেটি বীরত্বের নয়, প্রতারণার মহাকাব্য।
জাতিসংঘের তথ্য ভুল প্রমাণিত, মৃতরা জীবিত ফিরছে
এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রতারণা ছিল লাশের সংখ্যা নিয়ে। শুরুতে বলা হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। একটি মহল জাতিসংঘে পর্যন্ত ভুল তথ্য পাঠিয়েছিল। জাতিসংঘের প্রাথমিক রিপোর্টে যে মৃতের সংখ্যা দেখানো হয়েছিল, তা আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, সত্যতা বেরিয়ে আসছে। যাদের শহীদ বলে তালিকা করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন জীবিত হয়ে ফিরে আসছে। অনেকের পরিবার স্বীকার করছে তাদের সন্তান বিদেশে চলে গেছে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে “আমি বেঁচে আছি”। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই মৃতের তালিকা কারা বানিয়েছিল ? কেন বানিয়েছিল ? উত্তর একটাই – বিশ্ববাসীর সহানুভূতি নেওয়া এবং একটি বৈধ সরকারকে খুনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এটাই ছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ।
স্নাইপার বুলেট ও মিথ্যা দায়ভার
এই আন্দোলনের সবচেয়ে রহস্যজনক অধ্যায় হল স্নাইপার বুলেট। সাধারণ নিরীহ ছাত্রদের মাথায়, বুকে যে বুলেট পাওয়া গেছে, তা বাংলাদেশ পুলিশের রাইফেলের বুলেট নয়। ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে, এগুলো ছিল উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্নাইপার রাইফেলের বুলেট, যা সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট বা বিদেশি ভাড়াটে খুনিরা ব্যবহার করে। অথচ কী সুকৌশলে এই হত্যার দায়ভার সরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল। মিথ্যা অজুহাত তৈরি করা হল – “সরকার ছাত্র হত্যা করেছে”।
কিন্তু সত্য হল, যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারাই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে লাশের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকে আবেগপ্রবণ করা, যাতে সাধারণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও পুলিশ হত্যা
তারা নিজেদের “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী” দাবি করলেও, তাদের হাতে বাংলাদেশ জ্বলেছে।
মেট্রো রেল : যে মেট্রো ছিল বাংলাদেশের গর্ব, সেই মিরপুর ও কাজীপাড়া স্টেশন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতি প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা। আরও বেশি হতে পারে।
বিটিভি ও সেতু ভবন : রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, দুর্যোগ ভবন, সেতু ভবন, ডাটা সেন্টার – কোথাও বাদ যায়নি।
পুলিশ হত্যা : সবচেয়ে বর্বরতা দেখানো হয়েছে পুলিশের উপর। এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, রামপুরায় পুলিশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যও তো কারো বাবা, কারো সন্তান। তাদের কী অপরাধ ছিল ?
টার্গেট ছিল ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ
এই আন্দোলন বৈষম্য বিরোধী ছিল না, এটি ছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নিধন আন্দোলন। শুধুমাত্র মুজিব আদর্শে বিশ্বাস করার কারণে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কাউকে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলানো হয়েছে, কারো লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারো বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং এই হত্যার ধারাবাহিকতা আজও থামেনি। বিগত দুই বছর ধরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা খুন হচ্ছে। মব লিঞ্চিং এর নামে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নির্মূল অভিযান।
উপসংহার : ভুয়া আন্দোলনের ঐতিহাসিক দলিল
সময়ই সবচেয়ে বড় বিচারক। আজ দুই বছর পর মানুষ বুঝতে পারছে জুলাই ছিল দেশবাসীর সাথে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার একটি অংশ। এটি ছিল না কোনো ছাত্র আন্দোলন। এটি ছিল ক্ষমতা দখলের জন্য একটি সাজানো নাটক, যেখানে সাধারণ ছাত্রদের আবেগকে ব্যবহার করা হয়েছে, লাশের ব্যবসা করা হয়েছে, আর বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতিহাস একদিন লিখবে – ২০২৪ সালের জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতারণার গল্প। এটি ছিল একটি ভুয়া, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন, যার ক্ষত বাঙালি জাতিকে বহু বছর বয়ে বেড়াতে হবে।