ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল? কীভাবে আক্রমণ চালান হয়েছিল ভারতীয় পাইলটের উপর? অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। শরীরে একাধিক আঘাত নিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তিনি জানালেন ককপিটের ভিতরে সেই ভয়ঙ্কর কয়েক মিনিটের কথা। জানালেন কীভাবে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল তাঁর সহ-পাইলট।
স্মিত প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন, “ফ্লাইটটা একদম স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রা শুরু করেছিল। সহকারী পাইলট নামাজ পড়তে চেয়েছিল, যেটা অনেকেই করে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ও যখন নামাজ পড়ছিল, সম্মানের খাতিরে আমি সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, পিছনে তাকাইনি। হঠাৎ চার-পাঁচ মিনিট পর মাথার পিছনে একটা জোরে আঘাত অনুভব করি।” প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বিমানেই কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, “আমার প্রথমে মনে হয়েছিল বিমানের কোনও বড় ক্ষতি হয়েছে, কিছু একটা ঠিক নেই। কিন্তু তারপর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে, তখনই বুঝতে পারি এটা বিমান নয়, এটা ককপিটে থাকা আমার সহ-পাইলট আমাকে মারছে। আমি ওকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু প্রথম আঘাতগুলোর পর আমি ব্যাপক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। সব ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।” এরপরই তিনি টের পান বিমানটি দ্রুত নিচে নামছে।
স্মিতের কথায়, “তারপরই মনে হল বিমানটা খুব দ্রুত নিচে নামছে। আমি একবার দরজা খুলতে পেরেছিলাম, কিন্তু ও আবার বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন আমি ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলাম। কেবল বিমানের শব্দ আর যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।”
বলে রাখা ভালো, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন হঠাৎই পর পর জরুরি সংকেত পাঠায় বিমানটি। বিমান হাইজ্যাক হয়েছে বলেও সংকেত পাঠান হয়। বিমানে ২৭ জন শিশু সহ ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। পরে বোয়িং ৭৩৭-৮ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
জানা যাচ্ছে, যে সহকারী পাইলট স্মিতের উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ, তার নাম হামাম আল-হামামি, সে ওমানের নাগরিক। যদিও সরকারিভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র খবর অনুযায়ী, উগ্র মতাদর্শের কারণে আগেই ওমানে তাঁকে উড়ান থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বুধবারের ফ্লাইটে সে ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে স্মিতের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।