ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত-ই-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তাদের আসন সমঝোতার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত করেছে। জোট সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৩০০ আসনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী বাছাই ও আসন বণ্টনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশের এই ইসলামপন্থী জোট।
সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের সবচেয়ে বড় শরিক জামায়াত-ই-ইসলামি এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নাগরিক ন্যাশনাল পার্টি বা এনসিপি পেয়েছে ৩০টি আসন। বাকি আসনগুলি অন্যান্য শরিক দলগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জোটের নেতারা দাবি করেছেন, এই বণ্টন পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই করা হয়েছে এবং নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এই সমঝোতা। তবে এই ঘোষণার মধ্যেই সামনে এসেছে জোটের ভেতরের অস্বস্তির ছবি। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত এই আসন সমঝোতায় যোগ দেয়নি। জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সংবাদ সম্মেলনে তাদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত আসন বণ্টন নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নয় এবং আলোচনা এখনও শেষ হয়নি।
জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ইসলামি আন্দোলনের জন্য কিছু আসন খোলা রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে কতগুলি আসন তারা দাবি করছে এবং জামায়াত নেতৃত্ব সেই দাবিতে কতটা রাজি হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। এই টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসলামপন্থী ভোট একত্রিত রাখার কৌশল ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা প্রকাশ্যে আশাবাদী সুরেই কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং শেষ পর্যন্ত সব শরিককে এক ছাতার নিচে রাখা যাবে। তবে ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এই আসন সমঝোতা নিয়ে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
