ওঙ্কার ডেস্ক: এক বিদেশী কোম্পানির হাতে দেশের অন্যত্তম বন্দরের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দের কর্মী এবং শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার একটানা ২৪ ঘন্টা কর্ম বিরতি রাখে তাঁরা। উচ্চ কতৃপক্ষ যদই তাদের দাবী না মানে তাহলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাকাহ হবে বন্দর এবং আরও বৃহৎতর অন্দোলনে নামবে তাঁরা বলেও হুঁশায়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী কর্মী শ্রমিক সংগঠন।
চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে টানা অচলাবস্থার জেরে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা সরকারের একটি প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি একটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেই এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি।
সকালের শিফট শুরু হওয়ার পর থেকেই জেটি এলাকায় কনটেইনার ওঠানামা, পণ্য লোডিং-আনলোডিং, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে শ্রমিকদের উপস্থিতি কম থাকায় ক্রেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়নি এবং বেশ কয়েকটি জাহাজকে জেটিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যবাহী জাহাজকে নোঙর করে সমুদ্রে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা বন্দর কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও তাদের আশঙ্কা। সেই কারণেই প্রথমে কয়েক ঘণ্টার কর্মবিরতির মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হলেও পরে তা বাড়িয়ে পূর্ণদিবস ধর্মঘটে রূপ দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এদিকে বন্দরের অচলাবস্থার কারণে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল ও রপ্তানিমুখী পণ্য সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছালে বাজারে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা চালু থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে কর্মবিরতির প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
