ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে একসময় ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসা গাইবান্ধার পলাশবাড়ির শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অর্থপাচার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে হাওয়ালার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে কয়েক কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় এবং আদালতের নির্দেশ মেনে গ্রেপ্তারির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তদন্তে অর্থের উৎস, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস কয়েক মাস আগে পলাশবাড়িতে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তাঁর দাবি ছিল, এই মূর্তি নির্মিত হলে তা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং এশিয়ার উল্লেখযোগ্য রামমূর্তিগুলির মধ্যে স্থান পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের কথাও জানানো হয়েছিল। তবে মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন মহল থেকে অর্থের উৎস, প্রকল্পের বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে আপাতত রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হচ্ছে।