ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে কর্মরত প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অনুদানভিত্তিক (গ্রান্ট-ইন-এইড) বেতন কাঠামোর আওতায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তাঁরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মামলাগুলিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে আবেদনগুলি খারিজ করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে আপাতত বড় ধাক্কা খেলেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসায় বহু বছর ধরে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীরা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতো বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন না। তাঁদের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলি সরকার স্বীকৃত হওয়ায় সেখানে কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদেরও গ্রান্ট-ইন-এইড ব্যবস্থার আওতায় এনে নিয়মিত বেতন এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। সেই দাবিতেই তাঁরা একাধিক রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন।
মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সরকারি অনুদানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এতে তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্যদের সঙ্গে বৈষম্যেরও অভিযোগ তোলা হয়। আদালতের কাছে তাঁদের আবেদন ছিল, রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে তাঁদের গ্রান্ট-ইন-এইড প্রকল্পের আওতায় আনা হোক। তবে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাগুলিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালত আবেদনগুলি খারিজ করে দেওয়ায় আপাতত গ্রান্ট-ইন-এইড বেতন কাঠামোর দাবিতে কোনও আইনি স্বস্তি পেলেন না ওই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা। এর ফলে তাঁদের দাবি বাস্তবায়নের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।