ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। এই আবহেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফের একবার দেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছাপ্রকাশ করে তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন। বিদেশে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখছেন এবং উপযুক্ত সময়ে দেশের মাটিতে ফিরবেন বলেই বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েও তিনি কখনও ভেঙে পড়েননি। অতীতেও একাধিকবার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে, তবুও দেশের মানুষের সমর্থন এবং নিজের আদর্শের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি এগিয়ে চলেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি মনে করেন, আবারও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আসবে। শেখ হাসিনার বক্তব্য, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের পক্ষে অনুকূল নয়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী মতকে দমন করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বাংলাদেশের মানুষ একদিন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং সেই সময় তিনি দেশের মাটিতে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।
এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক বা আইনি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও জনগণের সমর্থন থাকলে সেই দলকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি অতীতেও বহু প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই শক্তি বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বিভিন্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়। সেই বিচার প্রক্রিয়ায় হাসিনা সহ পুলিশকর্তাদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়েও উদ্যোগী হয়েছে। তবে এসব আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, আইনি চাপ বা রাজনৈতিক বাধা তাঁকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।