নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া; গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর ৩০ মার্চ বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানা এলাকায় এক নাবালিকার রহস্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ এই ঘটনায় পাত্রসায়ের থানা এলাকার এক যুবক ও তার মা এর বিরুদ্ধে যোগসাজসের অভিযোগ ছিল মৃতার পরিবারের।
কিন্তু অভিযুক্তরা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সে সময় তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপে দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মৃতার পরিবারকে অভিযোগ দায়েরে বাধা দেন।
অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেসময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মৃতার ময়নাতদন্ত না করিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেহ। রাজ্যে পালাবদলের পর গত ১১ জুলাই অভিযুক্ত রোহিত ও তাঁর মা রুম্পার বিরুদ্ধে পাত্রসায়ের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার পরিবার। এরপরই পাত্রসায়ের থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ওই দুজনকে। ১১ জুলাই ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ।
ধৃত ওই ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনায় তৃণমূল জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত ও তার স্ত্রী পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিকের যোগসাজসের সূত্র হাতে পায় পুলিশ। এরপর ১২ জুলাই রাতে পূরবী দত্ত মল্লিককে গ্রেফতার করে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ। গতকাল রাতে প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি সুব্রত দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতেদের বিরুদ্ধে রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করা ও মৃতার পরিবারকে অভিযোগ করতে বাধা দেওয়া সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন সুব্রত দত্ত।
মঙ্গলবার রাতে সুব্রত দত্তের বাবা অসুস্থত হয়ে পাত্রসায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন৷ সেই খবর পেয়েই রাতে বাবাককে দেখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছিলেন সুব্রত দত্ত৷ গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়েই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ বুধবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পাত্রসায়ের থানা থেকে ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা চোর চোর স্লোগান দেয়।