আমজাদ আলী শেখ, বর্ধমান : চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বর্ধমান পুরসভার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় কোটি টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার পুরসভার এক কর্মী। ধৃতের নাম সমীর মুখোপাধ্যায়। তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারীরা ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সূত্রের খবর, গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে তিন দফায় বর্ধমান পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। সেই টাকা তোলা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের এক ব্যাঙ্কের শাখা থেকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুর কর্তৃপক্ষ। ব্যাঙ্ক ও বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের তদন্তে উঠে আসে পুরসভার কর্মী সমীর মুখোপাধ্যায়ের নাম। তাঁকে দু’বার মহারাষ্ট্রে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। সম্প্রতি সমীরবাবু আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন, তবে সেই মামলার রায় এখনও ঘোষণা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তার আগেই সোমবার রাতে বর্ধমানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, সাধারণত সাইবার অপরাধীরা অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা আত্মসাৎ করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে চেকের মাধ্যমে টাকা তোলায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। “সর্ষের মধ্যে ভূত” আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক অনুমান, মহারাষ্ট্রের ব্যাঙ্ক শাখার গাফিলতিতেই জালিয়াতরা টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ পরে পুরসভাকে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়েছে। তবে গোটা ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, “ঘটনা জানার পরেই আমরা ব্যাঙ্ক ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই। পরে টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে—যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে”। বর্ধমান আদালতের সরকারি আইনজীবী সোনালী চিত্রকর জানান, “দুটো চেক ইস্যু করা হয়েছিল বর্ধমান মিউনিসিপ্যালিটি থেকে। মহারাষ্ট্রের একটি সোনার দোকানে দুটো চেক পাঠালে সেটার মধ্যে একটা ক্লিয়ার হয়ে যায়। মহারাষ্ট্রের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে বর্ধমান পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের খবর দেওয়া হয় এখান থেকে যখন আটকে দেওয়া হয় পরে বরদা থানা থেকে অর্থাৎ বর্ধমানে নোটিশ আসে। এফ আই আর ডায়ের করে মহারাষ্ট্র পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক। ঘটনার সঙ্গে ধৃত পুরোপুরি জড়িত আছে”।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী পার্থ হাটি জানান, “মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতের দীর্ঘ শুনানি হয়েছে। আমার মক্কেল সমীর বাবুকে মহারাষ্ট্র ব্যাংকে যে মামলা রয়েছে সেখানে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বর্ধমান আদালত। আমার মকরের নামে যে অভিযোগ এনার নাম্বারটা নাকি ওখানে ব্যাংকে লিঙ্ক ছিল। একটি চেক ক্যাশ হওয়ার সময় মক্কালের ফোনে ফোন করে এবং মক্কেল কন্টেন্ট দেন চেকটা ক্লিয়ার করার জন্য। আমার মক্কেল সমীরবাবুর সঙ্গে কথা বলে যেটা জানতে পেরেছি, তার ফোনটা ক্লোন করা হয়েছিল, যার ফলে অন্য কেউ আমার মক্কেলের নাম্বারটা ব্যবহার করে পুরো কাজটা করেছে। এটা আমরা আশা করছি। এই ফোন ক্লোন এর ব্যাপারটা পিএনবি লিখিত জানিয়েছে”।
মহারাষ্ট্র পুলিশ সূত্রে জানা যায় আর্থিক কেলেঙ্কারি কাণ্ডে মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে ভূষণ পান্ডে, বিনোদ মেটে, ভূষণ মেটে। এই তিন জন ধৃতদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বর্ধমান পৌরসভার অ্যাকাউন্টেন্ট সমীর মুখোপাধ্যায়-এর।
