নিজস্ব সংবাদদাতা : বারাকপুর ওয়ারলেস মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর তাণ্ডব ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার ‘ডক্টর ডে’-র রাতেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের আঙুল উঁচিয়ে হুমকি ও শাসানোর সেই ভিডিও এখন সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। বারাকপুরের বিজেপি কর্মী কার্তিক দাসের বাবা দীনেশ দাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে ওয়ারলেস মোড়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ, রোগীকে ভর্তি করার আগে কত টাকার প্যাকেজ হবে, তা নিয়ে দরকষাকষি শুরু হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। রোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে, ভর্তি নিয়ে টালবাহানা করতে গিয়েই রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়া হয়, ফলে শ্বাসকষ্টে তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। সেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় তাঁর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কৌস্তভ বাগচী ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকদের দিকে আঙুল তুলছেন, তর্ক করছেন, হুমকির সুরে কথা বলছেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাও। উপস্থিত কর্মীদের মোবাইলে গোটা ঘটনার ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই চিকিৎসক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ডক্টর ফোরামের তরফে মুখ্যসচিবকে লিখিতভাবে গোটা ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় মোহনপুর থানায় কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কৌস্তভের বক্তব্য, ‘‘রোগী মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আমি না থাকলে হাসপাতাল ভাঙচুর হতো, চিকিৎসকরা মারও খেতেন। আমি হট্টগোল থামিয়েছি, তবে জোরে কথা বলেছি ঠিকই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্যাকেজ নিয়ে এত ব্যস্ত ছিল যে অক্সিজেন মাস্ক পরানোর কথাই ভুলে গিয়েছিল! হাসপাতাল নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নই।’’
হাসপাতালের দাবি, রোগীকে যথাসময়ে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। রোগীর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, হাসপাতালে আনার পর ফের অ্যাটাক হয়। চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
